ভারতে এফএমসিজি’র ব্যবসায় ক্যুইক কমার্সে বিক্রি ‘অল্পই’, জেনেনিন কি বলছে রিপোর্ট?

ভারতের ক্রেতা ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির (FMCG) ব্যবসায় গত দুই অর্থবছর ধরে ক্যুইক কমার্স চ্যানেলগুলির গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও সংস্থাগুলির সার্বিক ব্যবসায় ক্যুইক কমার্সের অবদান এখনও বেশ সামান্য, যা ২-৪ শতাংশের মতো। এর মূল কারণ হলো, ক্যুইক কমার্সের প্রভাব মূলত দেশের প্রথম সারির সাত থেকে আটটি শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
ক্যুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মের বিক্রি ও বৃদ্ধির হার
হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, ব্রিটানিয়া, এডব্লিউএল এগ্রি বিজ়নেস (সাবেক আদানি উইলমার), ডাবর, টাটা কনজ়িউমার প্রোডাক্টস এবং ম্যারিকোর মতো দেশের ছয়টি বৃহত্তম কনজি়উমার প্রোডাক্টস সংস্থার গত অর্থবছরে ক্যুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্মিলিত বিক্রির অঙ্ক ৪,৪০০ কোটি টাকা হয়েছে। অধিকাংশ সংস্থাই এই প্রথম তাদের মোট বিক্রির কতটা ক্যুইক কমার্স মারফত হয়েছে তার পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, মুদিখানার দোকান এবং হাইপারমার্কেট বা অফলাইন স্টোরের বদলে ক্যুইক কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশের বড় শহরগুলিতে জিনিসপত্র কেনার প্রবণতা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্লিঙ্কইট, স্যুইগি ইনস্টামার্ট, জ়েপটো এবং বিগবাস্কেটের মতো ক্যুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলির বিক্রি বার্ষিক ৫০-১০০ শতাংশ হারে বেড়েছে। দেশের অধিকাংশ ফাস্ট মুভিং কনজ়িউমার গুডস (এফএমসিজি) সংস্থার বিক্রি এর ফলে অনেকটাই বেড়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এলাকায় ক্যুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলির দ্রুত বিস্তার হচ্ছে।
সংস্থাগুলির ক্যুইক কমার্স থেকে আয়
গত অর্থবছরে বিভিন্ন সংস্থার মোট ব্যবসায় ক্যুইক কমার্সের অবদান নিম্নরূপ:
হিন্দুস্তান ইউনিলিভার: মোট ব্যবসার ২ শতাংশ বা ১,২১৪ কোটি টাকা।
ব্রিটানিয়া: মোট ব্যবসার ৪ শতাংশ বা ৬৭৫ কোটি টাকা।
টাটা কনজ়িউমার প্রোডাক্টস: ৭ শতাংশ বা ৯০০ কোটি টাকা।
ম্যারিকো: ৩ শতাংশ বা ২৪৪ কোটি টাকা।
ডাবর: মোট ব্যবসার ৪ শতাংশ বা ৫০০ কোটি টাকা।
পার্লে প্রোডাক্টস: মোট ব্যবসার ৪ শতাংশ ব্লিঙ্কইট, জ়েপটোর মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে এসেছে।
দেশের অন্যতম বৃহৎ প্যাকেটজাত ভোজ্যতেল প্রস্তুতকারী সংস্থা এডব্লিউএল এগ্রি বিজ়নেস-এর ক্যুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবসা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গত অর্থবছরে ৯০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সংস্থার চিফ এগজ়িকিউটিভ অফিসার অংশু মল্লিক বলেন, “ক্যুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলি বেশ কিছু নতুন শহরে তাদের পরিষেবা শুরুর ফলে গত অর্থবছরে তাদের ব্যবসা ১০০ শতাংশ বেড়েছে। অতিরিক্ত খরচ না করেও বাড়ি বা অফিসের আরামে বসে পণ্য কেনার সুযোগ করে দিচ্ছে এই প্ল্যাটফর্মগুলি। যা বাড়ির কাছের মুদিখানার দোকানগুলির পক্ষে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
এই পরিসংখ্যানগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ক্যুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলি দ্রুত বর্ধনশীল বাজার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করলেও, দেশের বিশাল FMCG বাজারের একটি ছোট অংশই এখনো তারা দখল করতে পেরেছে। তবে শহরাঞ্চলে এর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ভবিষ্যতে সামগ্রিক ব্যবসায় এর অবদান আরও বাড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।