“আমরা এটি খারিজ করে দেব”- সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মহাসংকটে ভোডাফোন আইডিয়া

ভোডাফোন আইডিয়া (ভিআই), এয়ারটেল এবং টাটা টেলিসার্ভিসেসের অ্যাডজাস্টেড গ্রস রেভিনিউ (এজিআর) বকেয়া মকুব করার আর্জি সোমবার খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ এই আবেদনগুলিকে ‘ভুল ধারণা’ (misconceived) বলে অভিহিত করেছে, যা দেশের টেলিকম ক্ষেত্র, বিশেষ করে আর্থিক সংকটে থাকা ভিআই-এর জন্য এক বড় ধাক্কা। সুপ্রিম কোর্ট আবেদন খারিজ করার পর এদিন সংস্থার শেয়ারদরে বড় ধরনের পতন দেখা যায়।

আদালতে উপস্থিত ভিআইয়ের কৌঁসুলি প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগির উদ্দেশ্যে বেঞ্চের তরফে কড়া ভাষায় বলা হয়েছে, “আমাদের সামনে আসা এই আবেদনগুলি দেখে আমরা সত্যিই হতবাক। সত্যিই বিরক্ত। এটি একটি বহুজাতিক কোম্পানির কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। আমরা এটি খারিজ করে দেব।”

শুনানির শুরুতে রোহতগি জুলাই মাস পর্যন্ত নির্দেশ স্থগিত রাখার আর্জি জানালে আদালত তার কারণ জানতে চায়। রোহতগি জানান, আদালতকে বিরক্ত না করে তারা কিছু করার চেষ্টা করছেন এবং এ-ও জানান যে ভিআইতে এখন কেন্দ্রের ৫০% অংশীদারিত্ব রয়েছে। বেঞ্চের জবাব ছিল স্পষ্ট, “যদি সরকার আপনাদের সাহায্য করতে চায়, তারা করুক। আমরা বাধা দিচ্ছি না। কিন্তু, এটা খারিজ করা হলো।” রোহতগি আরও জানান, ২০২১ সালের জুলাইতে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জন্য কেন্দ্র তাদের সাহায্য করতে অক্ষমতার কথা জানিয়েছে।

টেলিকম সংস্থাগুলি বকেয়া এজিআর গণনায় গাণিতিক ত্রুটির অভিযোগ তুলে তা সংশোধনের জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। তবে ২০২১ সালের ২৩ জুলাই দেশের শীর্ষ আদালত সেই আবেদনগুলি খারিজ করে দিয়েছিল। সোমবার রোহাতগি আবেদনটি প্রত্যাহারের অনুমতি চাইলে, বেঞ্চ তা মঞ্জুর করেনি, এবং বলে, “আমরা আপনাকেও প্রত্যাহার করার অনুমতি দেব না।”

ভোডাফোন তার এজিআর বকেয়ার সুদ, জরিমানা এবং জরিমানার ওপর সুদের উপাদানের প্রায় ৪৫,০০০ কোটি টাকা মকুব করার আবেদন করেছিল। ভারতী এয়ারটেলও সুদ ও জরিমানা খাতে ৩৪,৭৪৫ কোটি টাকা মকুব করার আর্জি জানিয়েছিল, যা এদিন খারিজ হয়ে গিয়েছে।

এদিক ভিআই আবারও সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত সহায়তা না পেলে তারা ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের পরে আর হয়তো পরিষেবা দিতে পারবে না। ২৬ হাজার কোটি টাকার ইক্যুইটি এবং সরকার তাদের পাওনা ইক্যুইটিতে রূপান্তর করলেও ভিআই জানিয়েছে, তারা ব্যাঙ্ক ঋণ পাচ্ছে না।

সংস্থার তরফে কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে, সরকার হস্তক্ষেপ না করলে তারা হয়তো তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে না এবং তার ফলে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনালে (NCLT) গিয়ে দেউলিয়া প্রক্রিয়া শুরু করতে তারা বাধ্য হতে পারে। সংস্থা দেউলিয়া হয়ে গেলে ভিআইতে থাকা কেন্দ্রের ৪৯% অংশীদারিত্বেরও সম্ভবত কোনো মূল্য থাকবে না বলে সরকারকে সতর্ক করেছেন ভিআই কর্তৃপক্ষ। এই রায় ভারতীয় টেলিকম শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বিশেষ করে ভিআই-এর মতো সংস্থার জন্য, যারা টিকে থাকার জন্য সরকারি সমর্থনের উপর নির্ভরশীল।