মাসি-বোনপোর উত্তাল প্রেম, সঙ্গমের মুহূর্ত দেখে ফেলতেই স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন! পুলিশের হাতে গ্রেফতার

উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মাসির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন বোনপো। এক পর্যায়ে তাদের গভীর প্রেমের সম্পর্ক ধরা পড়ে স্বামীর কাছে। এর জেরেই স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে নৃশংসভাবে খুন করেছেন স্ত্রী। এই হত্যাকাণ্ডে তাকে সাহায্য করেছেন তারই বোনপো। পুলিশ ইতিমধ্যেই স্ত্রী ও বোনপোকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত ১১ মে নিজের বাড়িতে ধীরেন্দ্রর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর তার স্ত্রী রীনা অভিযোগ করেন যে, প্রতিবেশী কীর্তি এবং তার দুই ছেলে মিলে ধীরেন্দ্রকে খুন করেছেন। এমনকি, প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তির ছুঁড়ে এলাকায় তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং স্থানীয় নেতাদের কাছেও অভিযোগ জানান। এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে এলাকায় বহু মানুষ প্রতিবাদে শামিল হন। রীনার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কীর্তি ও তার এক ছেলেকে গ্রেপ্তারও করে।

তবে, পুলিশি তদন্ত চলতে থাকে। ধীরেন্দ্রর ঘরে রক্তের দাগ এবং রক্তের দাগ লাগা একটি কাঠের তক্তা পাওয়া যায়। ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা যায়, সেই রক্তের সঙ্গে ধীরেন্দ্রর রক্তের মিল রয়েছে। ডগ স্কোয়াড ধীরেন্দ্রর বাড়ির সামনেই থেমে যায়, যা থেকে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, ধীরেন্দ্রকে বাড়ির মধ্যেই খুন করা হয়েছিল।

এরপর পুলিশ রীনার ফোনের কল ডিটেইলস সংগ্রহ করে। এতে দেখা যায়, যে রাতে ধীরেন্দ্র খুন হন, সেই রাতে রীনা তার বোনপো সত্যমের সঙ্গে ৪০ বার ফোনে কথা বলেছেন। সত্যমকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি খুনের ঘটনা স্বীকার করেন। পুলিশকে সত্যম জানান যে, রীনা খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ধীরেন্দ্রকে অজ্ঞান করেন। এরপর কাঠের তক্তা দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে খুন করা হয়। খুনের পর রক্তের দাগ মুছে, স্নান করে রীনা সন্তানদের কাছে গিয়ে ঘুমাতে যান।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, রীনা ও সত্যমকে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে দেখে ফেলেছিলেন ধীরেন্দ্র। এরপরই রীনা তাকে খুনের পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনায় সত্যম তাকে সাহায্য করেন।

ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের পর পুলিশ রীনা ও সত্যমকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনা কানপুরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।