জঙ্গি সইফুল্লার মৃত্যুতে ফুঁপিয়ে কাঁদছে পাকিস্তান, লস্কর নেতার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় করা হলো শেষকৃত্য

ভারতের মাটিতে একাধিক বড়সড় জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্রের মূলচক্রী, কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ নেতা সইফুল্লা খালিদ পাকিস্তানে নিহত হয়েছে। তার সেই শেষকৃত্য পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে সাড়ম্বরে পালিত হয়েছে, যেখানে তাকে কার্যত ‘শহিদ’-এর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং তার মরদেহ পাকিস্তানের জাতীয় পতাকায় মোড়া হয়েছিল।

সূত্রের খবর, সইফুল্লা পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের বাদিন জেলার মাতলি শহরে লুকিয়ে ছিল। গত রবিবার মাতলি শহরের বাড়ি থেকে বেরনোর পরেই এক চৌমাথায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং গুলি চালিয়ে হত্যা করে। জানা গেছে, সংগঠনের তরফে তাকে আগে থেকেই চলাফেরায় সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল এবং তার নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

সইফুল্লা লস্কর-ই-তৈবার নেপাল মডিউলের দায়িত্বে ছিল এবং পাকিস্তানে বসেই সে সংগঠনের জন্য জঙ্গি নিয়োগের কাজ দেখত। সন্ত্রাসবাদী হিসেবে যুবকদের রিক্রুট করা, টেরর ফান্ডিং, অর্থ সংগ্রহ ও সরবরাহ, তরুণদের মগজ ধোলাই করে জঙ্গি সংগঠনে যুক্ত করা এবং কার্যকলাপ পরিচালনা করা—এই সমস্ত কিছুই সে লস্করের হয়ে দেখত।

‘বিনোদ কুমার’ ছদ্মনামে সাইফুল্লা দীর্ঘদিন নেপালে বসবাস করেছে এবং সেখানকার এক স্থানীয় মহিলা নাগমা বানুকে বিয়েও করেছিল। নকল পরিচয়ে লুকিয়ে থেকেই সে নেপাল থেকে জঙ্গি নিয়োগ ও রসদ জোগাড়ের কাজ পরিচালনা করত বলে মনে করা হয়। নিজেকে গোপন রেখে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করত সে।

ভারতের মাটিতে হওয়া একাধিক বড় জঙ্গি হামলার সঙ্গে তার সরাসরি যোগ ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০০৫ সালের বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসে হামলা, ২০০৬ সালে নাগপুরে আরএসএস সদর দফতরে হামলা এবং ২০০৮ সালে উত্তরপ্রদেশের রামপুরে সিআরপিএফ ক্যাম্পে হামলা।

সইফুল্লার মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্য সিন্ধ প্রদেশেই সাড়ম্বরে পালিত হয়। সেখানে লস্কর-ই-তৈবার একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন এবং তারা মরদেহের সামনে জানাজার নমাজ পাঠ করেন। পাকিস্তানের জাতীয় পতাকায় মরদেহ মোড়ার ঘটনা এবং লস্করের সদস্যদের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য কার্যত কুখ্যাত এই জঙ্গি নেতাকে ‘শহিদ’-এর মর্যাদা দেওয়ার শামিল বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। এই ঘটনা পাকিস্তানের মাটিতে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপের পৃষ্ঠপোষকতার আরও একটি প্রমাণ বলে মনে করছেন অনেকে।