সাঁতরাগাছি স্টেশনে ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং চালু, ডায়মন্ড ক্রসিং উচ্ছেদ ও প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধি, যাত্রীদের জন্য সুখবর

দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন সাঁতরাগাছিতে আধুনিকীকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের নির্মাণ বিভাগ ও খড়গপুর ডিভিশনের যৌথ উদ্যোগে সম্পূর্ণ সফলভাবে ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং (EI) সিস্টেম চালু করা হয়েছে এই স্টেশনে।
রবিবার সাত ঘণ্টার একটি পূর্ণ ট্রাফিক ব্লকের মধ্যে দিয়ে ৫৩৩টি রুটের জন্য ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিংয়ের কমিশনিং সম্পন্ন করা হয়েছে। এই বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ হিসেবে স্টেশনের ইয়ার্ড রিমডেলিং, প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ এবং সাঁতরাগাছি-আন্দুল শাখায় গুরুত্বপূর্ণ লাইন (ডায়মন্ড ক্রসিং) অপসারণের মতো কাজও করা হয়েছে। ডায়মন্ড ক্রসিং তুলে দিয়ে সেখানে সুরঙ্গপথ (আন্ডারপাস) নির্মাণ করা হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সূক্ষ্ম পরিকল্পনা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাত্র ১৮ দিনে এই বিশাল ও জটিল উন্নয়নমূলক কাজটি সম্পন্ন করেছে। ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু করে ধারাবাহিক বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ শেষে গত ১৮ মে মূল এনআই ও কমিশনিংয়ের দিন ছিল। সাধারণত এত বড় এবং জটিল কাজের জন্য বহুদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়, কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব রেল সীমিত ট্রাফিক ব্লকের মধ্যেই কাজ শেষ করে যাত্রীদের ন্যূনতম অসুবিধা নিশ্চিত করেছে।
এই প্রকল্পের আওতায় সাঁতরাগাছি স্টেশনে দুটি নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এছাড়াও, পুরনো প্ল্যাটফর্মগুলির দৈর্ঘ্য বাড়ানো হয়েছে যাতে সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ট্রেনগুলি সহজে প্রবেশ করতে পারে। নবনির্মিত ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং সিস্টেমটি ছয়টি জোনে বিভক্ত এবং এতে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগের মাধ্যমে ভিডিইউ থেকে মাউস-কিবোর্ডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের অত্যাধুনিক সুবিধা রয়েছে।
এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে সাঁতরাগাছি স্টেশনে মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনগুলির পরিচালন মসৃণ হবে, গতি ও সময়ানুবর্তিতা বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে, দীর্ঘ ও বড় ট্রেনগুলিও এখন সাঁতরাগাছিতে সহজে প্রবেশ করতে পারবে। এটি যাত্রীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।
রবিবার এই গুরুত্বপূর্ণ কমিশনিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ-পূর্ব রেলের নির্মাণ বিভাগের প্রধান রাজীব শ্রীবাস্তব, খড়গপুর ডিভিশনের ডিআরএম কে.আর. চৌধুরি সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকবৃন্দ।