কার সঙ্গে কথা বলে সারাদিন? স্বামীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ! ফিল্মি কায়দায় ধরলেন হাতেনাতে

বিয়ের কয়েক মাস পরেই স্বামীর আচরণে বিরাট বদল লক্ষ করেন স্ত্রী। প্রায়ই অশান্তি, রাত জেগে হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুকে চ্যাট করা এবং ফোন লক করে রাখার মতো বিষয়গুলো স্ত্রীর মনে সন্দেহের দানা বাঁধতে শুরু করে। স্বামী আদৌ প্রতারণা করছেন কিনা, তা জানতেই এক অভিনব এবং ফিল্মি পন্থা অবলম্বন করেন ওই তরুণী, আর তাতেই হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্বামীর গোপন কার্যকলাপ। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে।
পুলিশ জানিয়েছে, ২৩ বছরের ওই তরুণী গোয়ালিয়রের বাসিন্দা এবং তার স্বামী একটি বেসরকারি সংস্থায় সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করেন। তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, বিয়ের পর কিছুদিন স্বাভাবিক থাকলেও কয়েক মাস যেতে না যেতেই স্বামীর আচরণ বদলে যায়। তিনি প্রায়ই রাত জেগে হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুকে কারোর সঙ্গে চ্যাট করতেন এবং ফোনটি সবসময় লক করে রাখতেন। স্ত্রী চাইলেও স্বামীর ফোনে কী আছে বা কার সঙ্গে কথা হচ্ছে তা দেখতে পারতেন না। স্বামীর এমন অস্বাভাবিক আচরণ ও গোপনীয়তা স্ত্রীর মনে গভীর সন্দেহের জন্ম দেয়।
স্বামীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ ক্রমশ গাঢ় হতে থাকলে ওই তরুণী সত্য উদ্ঘাটনের জন্য একটি বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল নেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলেন। এরপর সেই ভুয়ো প্রোফাইল থেকে নিজের স্বামীর কাছে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান এবং স্বামীর সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করেন। যুবক বিন্দুমাত্র টের পাননি যে তিনি তার নিজের স্ত্রীর সঙ্গেই চ্যাট করছেন। টানা দু’মাস ওই তরুণী সেই ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থেকেই স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন। এই চ্যাট চলাকালীন যুবক তার নতুন ‘বন্ধু’কে জানান যে তিনি অবিবাহিত এবং একটি বড় কোম্পানিতে কাজ করেন। স্বামীর এই মিথ্যাবাদী রূপটি স্ত্রী প্রথমবার জানতে পারেন তার নিজের তৈরি করা ভুয়ো প্রোফাইলের মাধ্যমেই।
দু’মাস ধরে ভুয়ো প্রোফাইলে চ্যাট করার পর একদিন ওই যুবক তার নতুন অনলাইন বন্ধুর অর্থাৎ ভুয়ো প্রোফাইলের তরুণীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার প্রস্তাব দেন। স্ত্রী সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে একটি ক্যাফেতে দেখা করার পরিকল্পনা করেন। নির্দিষ্ট দিনে ক্যাফেতে দেখা করতে গিয়েই যুবকের চক্ষু চড়কগাছ। তিনি দেখেন, তার নতুন অনলাইন বন্ধু আর কেউ নন, তার নিজের স্ত্রীই সেখানে বসে আছেন! এরপর শুরু হয় তুমুল অশান্তি এবং বচসা।
এই ঘটনার পর ওই তরুণী স্থানীয় মহিলা থানায় গিয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে দীর্ঘক্ষণ ধরে কথা বলে এবং কাউন্সেলিং করে। পুলিশ জানিয়েছে, যেহেতু এটি একটি পারিবারিক বিবাদ, তাই এই ঘটনায় আপাতত কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হয়নি। পুলিশ দু’জনকে বুঝিয়ে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।
স্ত্রীর এমন অভিনব পদ্ধতিতে স্বামীর কেচ্ছা ফাঁস হওয়ার ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সন্দেহের এক নতুন দিক তুলে ধরেছে। এই ঘটনা সম্পর্কের মধ্যে সততা ও বিশ্বাসের গুরুত্বকে আবারও সামনে এনেছে।