বাবা-মা-বোনকে কফিনবন্দি করে খুন! চার বছর পর অভিযুক্ত ছোট ছেলেকে ফাঁসির সাজা শোনাল আদালত

চার বছর আগের এক ভয়াবহ খুনের মামলার রায় শোনালো মালদা জেলা আদালত। নিজের বাবা, মা, বোন এবং ঠাকুরমাকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত যুবক মহম্মদ আসীফকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে আদালত। শুক্রবারই বিচারক আসীফকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন এবং শনিবার ছিল মামলার রায় ঘোষণার দিন। আদালত এই গোটা ঘটনাকে ‘বীভৎস’ বলে উল্লেখ করেছে রায়ে।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, মালদহের কালিয়াচক থানার পুরাতন ১৬ মাইল এলাকায়। পরিবারের ছোট ছেলে মহম্মদ আসীফ তার বাবা জাওয়াদ আলি, মা মাইরা বিবি, বোন আরিফা খাতুন ও ঠাকুরমা আলেক বেওয়াকে অত্যন্ত নির্মমভাবে খুন করে। নিজের পরিবারকেও কেউ এইভাবে শেষ করে দিতে পারে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, আসীফের চালানো হত্যালীলা থেকে ভাগ্যের জোরে প্রাণ বেঁচে গিয়েছিল তার দাদা মহম্মদ আরিফের। প্রাণের ভয়ে সে এলাকাছাড়া হয়েছিল। ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, আসীফ এই কাণ্ড ঘটিয়ে বাবা-মাকে মেরে তাদের নবনির্মিত বাড়িতেই লুকিয়ে ছিল এবং খুব বেশি বাইরে যাতায়াত করত না। ফলত পাড়া-প্রতিবেশীরা কেউই এই নৃশংসতার বিষয়ে টের পায়নি। পুলিশ যখন ঘটনা জানতে পারে তখন ছিল জুন মাস, অর্থাৎ হত্যার প্রায় চার মাস পর। পুলিশ আসীফদের বাড়ির গুদাম ঘরে ঢুকে চারটি পচা গলা দেহ উদ্ধার করে এবং আসীফকে গ্রেফতার করে। তবে ঠিক কী কারণে সে এমন ভয়ংকর কাজ করেছিল, তা আজও অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়।

এদিন আসীফের বিরুদ্ধে সওয়ালকারী সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্য়ায় এই নৃশংস হত্যার পদ্ধতি ও সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আসীফ প্রথমে ঠান্ডা পানীয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাড়ির সবাইকে খাওয়ায়। এরপর তাদের অচেতন দেহগুলি কফিন বন্দি করে এবং তাতে জল ভরে দেয়। আইনজীবী চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, সম্পত্তির কারণেই আসীফ এই কাজ করেছিল বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ পরিবারের সমস্ত সম্পত্তি তার নামেই ছিল এবং সে বাবা-মাকেও নিউটাউনে ফ্ল্যাট কিনে দেওয়ার ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তিনি নিশ্চিত করেন যে একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী, আসীফের দাদা আরিফের জলের শব্দেই ঘুম ভাঙে এবং সে প্রাণ বাঁচিয়ে পালাতে সক্ষম হয়।

শুক্রবার দীর্ঘ সওয়াল জবাবের পর বিচারক মহম্মদ আসীফকে দোষী সাব্যস্ত করেন। শনিবার মামলার রায় ঘোষণার সময় মালদা জেলা আদালত এই গোটা ঘটনাকে ‘বীভৎস’ বলে আখ্যা দেয় এবং আসীফকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায়। এই ধরনের নৃশংস অপরাধের জন্য এটি সর্বোচ্চ শাস্তি।

এদিন আসীফের পক্ষে সওয়ালকারী আইনজীবী মহম্মদ নাসের আলি জানিয়েছেন, ‘আদালত ফাঁসির সাজা দিয়েছে। তবে এই রায়ের ভিত্তিতে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

মালদা জেলা আদালতের এই রায় জেলার পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই মামলা এখন উচ্চ আদালতে গড়াবে।