বাংলাদেশকে এড়িয়েই বিকল্প পথ তৈরি করছে ভারত, সেভেন সিস্টার্স নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের

ভারতের ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোরকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ এবং বাংলাদেশের কিছু সাম্প্রতিক পদক্ষেপ, বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কিছু মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে এবার বিকল্প পথের সন্ধান করছে ভারত। এবার বাংলাদেশকে এড়িয়েই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী নতুন ট্রানজিট রুট তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে নয়াদিল্লি। এই বিকল্প পথের কেন্দ্রস্থল হবে কলকাতা।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শিলিগুড়ির চিকেনস নেক করিডোরের দিকে বাংলাদেশের ‘কুনজর’ পড়েছে বলে মনে করছে দিল্লি। বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার পর এই করিডোর নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ইউনূস একবার বড়াই করে বলেছিলেন যে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি ল্যান্ড-লকড এবং তারাই সমুদ্রের অভিভাবক। তার এই মন্তব্যে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা নেওয়ার ইঙ্গিত ছিল, যা ভারতকে বিকল্প ভাবতে বাধ্য করেছে। সেই কারণেই এবার বাংলাদেশকে পুরোপুরি এড়িয়েই বিকল্প পথ তৈরি করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে কেন্দ্র।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকেনস নেকের বিকল্প হিসাবে মায়ানমারের সড়কপথ ব্যবহার করে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির সঙ্গে সংযোগকারী ট্রানজিট রুট তৈরি করা হবে। এর একটি অংশে শিলং থেকে অসমের শিলচর পর্যন্ত একটি চার লেনের জাতীয় সড়ক প্রস্তাব করা হয়েছে। ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জাতীয় সড়কটি মায়ানমার সীমান্তের কাছেই অবস্থিত পাঁচগ্রামকেও জুড়বে। ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (NHIDCL) এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা তৈরির দায়িত্বে থাকবে।
অন্যদিকে, সমুদ্র পথেও যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কলকাতা থেকে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশের সিট্টে বন্দর পর্যন্ত একটি বিকল্প রুট তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যেই মায়ানমারের সঙ্গে এই বিকল্প রুট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই বিকল্প রুট একবার তৈরি হয়ে গেলে সাড়ে ৮ ঘণ্টার রাস্তা ৫ ঘণ্টায় অতিক্রম করা যাবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির জন্য পণ্য পরিবহন অনেক দ্রুত ও সহজ হবে।
সব মিলিয়ে, এই বিকল্প রুটগুলি তৈরি হয়ে গেলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ আরও সুরক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য হবে। একইসঙ্গে, বাংলাদেশের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে ভারত, সেটাই এই পদক্ষেপে স্পষ্ট।