“নজর রাখা যেত শত্রুর উপরে”-কেন ব্যর্থ ১০১তম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ? জেনেনিন ISRO -র ব্যাখ্যা

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো-র অন্যতম ভরসাযোগ্য এবং অত্যন্ত সফল রকেট পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (PSLV)-এর একটি বিরল ব্যর্থতা ঘটল রবিবার সকালে। অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের পর পিএসএলভি-সি৬১ রকেটটি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট ইওএস-০৯-কে তার নির্ধারিত গন্তব্যে বা কক্ষপথে স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৯৩ সালে প্রথম আত্মপ্রকাশ করার পর থেকে পিএসএলভি-র সাফল্য ছিল ঈর্ষণীয় এবং ব্যর্থতার সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। সেই নিরিখে ইসরো-র ১০১তম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ অভিযানের এই অপ্রত্যাশিত ব্যর্থতা মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

রবিবার একেবারে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভোর ৫টা ৫৯ মিনিটে অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে ইসরোর এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ অভিযান শুরু হয়। আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট ইওএস-০৯-কে মহাকাশে তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল পিএসএলভি-সি৬১ রকেটটির, যা পিএসএলভি সিরিজের ৬৩তম উৎক্ষেপণ বাহন ছিল।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ঝুলিতে একাধিক রেকর্ড সাফল্য থাকা সত্ত্বেও, পিএসএলভি-সি৬১ উপগ্রহটিকে তার নির্ধারিত কক্ষপথে সঠিকভাবে স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়। কেন এই ব্যর্থতা ঘটল, তার নির্দিষ্ট কারণ জানতে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মহাকাশ বিজ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহী মহল অত্যন্ত উৎসুক। ইসরোর তরফে এই ব্যর্থতার কারণ খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিশেষ ‘ফেলিওয়র অ্যানালিসিস কমিটি’ গঠন করার কথা জানানো হয়েছে। সেই কমিটির বিস্তারিত রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার ইঙ্গিতও দিয়েছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।

প্রাথমিক ভাবে পাওয়া ইঙ্গিত অনুসারে, উৎক্ষেপণের তৃতীয় পর্যায়ে সম্ভবত কোনও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। পিএসএলভি-র এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপেই স্যাটেলাইটটিকে তার চূড়ান্ত এবং নির্দিষ্ট কক্ষপথের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল বাহনের। এই ধাপটি সলিড মোটর সিস্টেমের উপর নির্ভরশীল এবং মনে করা হচ্ছে এই ধাপটি সঠিক ভাবে কাজ করেনি।

ইসরোর ১০১তম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ অভিযানের ব্যর্থতার পর ইসরোর প্রধান ভি নারায়ণন এ বিষয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, “আজ আমরা স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল পিএসএলভি-সি৬১ এর মাধ্যমে আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট ইওএস-০৯ উৎক্ষেপণের চেষ্টা করেছিলাম শ্রীহরিকোটা থেকে। এই পিএসএলভি একটি চারটি পর্যায়ের বাহন। দ্বিতীয় পর্যায় পর্যন্ত স্যাটেলাইটটিকে তার গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য এটি ঠিকমতোই কাজ করছিল। তৃতীয় স্টেজে মোটরও সঠিক ভাবে শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়েই আমাদের তরফে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ সামনে আসে এবং দুঃখজনকভাবে মিশনটি সম্পন্ন করা যায়নি।” তিনি আরও জানান, এই মিশনের অসফলতার কারণ বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

উল্লেখ্য, পিএসএলভি ইসরোর অন্যতম নির্ভরযোগ্য এবং সফলতম লঞ্চ ভেহিকল। এর আগে ২০১৭ সালেও একবার পিএসএলভি-র ক্ষেত্রে একটি সমস্যা এসেছিল। সেই সময় উপগ্রহটি রকেটের ভেতরেই আটকে গিয়েছিল এবং সেই মিশনটিও সম্পূর্ণ হয়নি।

যদি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট ইওএস-০৯ সফলভাবে তার গন্তব্যে পৌঁছতে পারত, তাহলে ভারতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হতো। এই স্যাটেলাইটের পরিকল্পিত আয়ু ছিল ৫ বছর। এই সময়ে মহাকাশ থেকে এটি অত্যন্ত হাই রেজুলিউশনের ছবি বা স্পষ্ট ছবি পাঠাতে পারত। ফলে এটি দেশের বিপর্যয় মোকাবিলা থেকে শুরু করে জাতীয় সুরক্ষার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হতো। এই বিরল ব্যর্থতা ইসরোর ভবিষ্যতের কিছু পরিকল্পনার উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।