নাবালকের গায়ে গরম দুধ ঢালার অভিযোগ ! ঘটনার 28 দিন পর বিজেপি নেতা গ্রেফতার

পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘিতে দোকানে ঢুকে এক নাবালকের গায়ে গরম দুধ ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এক প্রাক্তন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রায় ২৮ দিন পর অবশেষে ঝাড়খণ্ডের পাকুড় এলাকা থেকে অভিযুক্ত অমিত মাকড় নামে ওই প্রাক্তন বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ ঝাড়খণ্ড পুলিশের সহায়তায় শনিবার ভোরে তাকে পাকুড়ের একটি হোটেল থেকে পাকড়াও করে।
জানা গেছে, পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার মালকিতা গ্রামের বাসিন্দা উমাশঙ্কর সাউ। তিনি বর্ধমান উত্তর বিধানসভা এলাকার বিজেপির ২ নং মণ্ডলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক অমিত মাকড়ের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেই টাকা আদায় করার জন্য অমিত প্রায়শই তার লোকজন নিয়ে উমাশঙ্করের দোকানে গিয়ে জুলুম করতেন বলে অভিযোগ।
গত ১৯ এপ্রিল মৌসম হাজরা নামে এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে উমাশঙ্করের দোকানে যান অমিত। সেই সময় উমাশঙ্কর দোকানে ছিলেন না, ছিলেন তার নাবালক ছেলে। অভিযোগ, বাবাকে না পেয়ে অমিত ছেলেটির উপর চড়াও হন। দোকানে ভাঙচুর চালানোর সময় ছেলেটি বাধা দিলে তার গায়ে ফুটন্ত গরম দুধ ঢেলে দেন অমিত। অভিযোগ, এতে নাবালক ছেলেটির শরীর মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্ত অমিত মাকড় আগে বিজেপির দলীয় পদে থাকলেও বর্তমানে কোনো পদে নেই। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই।
ঘটনার পর থেকেই অমিত মাকড় ঝাড়খণ্ডের পাকুড়ের একটি হোটেলে গিয়ে লুকিয়ে ছিলেন। প্রায় মাসখানেক ধরে তিনি সেখানে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। পুলিশ মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে তার গতিবিধির উপর নজর রাখতে শুরু করে। এরপর ঝাড়খণ্ড পুলিশের সহায়তায় শনিবার ভোরে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
জেলা আদালতে ধৃত বিজেপি নেতার সাতদিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হলেও আদালত চারদিনের হেফাজত মঞ্জুর করেছে।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা রানা ভট্টাচার্য বলেন, “মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিজেপি নেতা একজন নাবালকের উপর ফুটন্ত গরম দুধ ঢেলে দিয়েছেন। এটা অত্যন্ত অমানবিক ঘটনা। ওই নাবালকের চিকিৎসা চলছে। আমরা ওই বিজেপি নেতা সহ এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।