“পাক হাইকমিশনে ডিনার, ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র”-পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি, গ্রেফতার ইউটিউবার

পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগে হরিয়ানার এক ইউটিউবারকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তানের পক্ষে ইতিবাচক প্রচার চালানোর পাশাপাশি তিনি পাকিস্তানের হাই কমিশনের এক আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভারতের অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীল তথ্য পাচার করতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ইউটিউবারের নাম জ্যোতি মালহোত্রা। তিনি ‘Travel with Jo’ নামে একটি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল চালান, যার সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় ৩.৭৭ লক্ষ। বিভিন্ন ভিডিওতে তাঁকে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, জ্যোতি তাঁর ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম সহ একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পাকিস্তানের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। এর পাশাপাশি তিনি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বলেও অভিযোগ।

দিল্লি পুলিশের দাবি, জ্যোতি পাকিস্তান হাই কমিশনের এক আধিকারিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন এবং তার মাধ্যমে ভারতীয় অবস্থান সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য বিদেশে শেয়ার করতেন। সম্প্রতি তারা দুজনে ইন্দোনেশিয়ার বালি ভ্রমণ করেছিলেন বলেও জানা গেছে। দিল্লিতে থাকাকালীনও ওই আধিকারিকের সঙ্গে জ্যোতির যোগাযোগ ছিল। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রচারণার জন্য তার সোশ্যাল মিডিয়া প্রভাবকে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

জ্যোতির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি থেকে দেখা যায় তিনি ভারতের বাইরে ইন্দোনেশিয়া এবং চীন সহ আরও বেশ কয়েকটি বিদেশী স্থান ভ্রমণ করেছেন। তবে তদন্তকারী সংস্থাগুলি তার পাকিস্তান সফরগুলির উপর বিশেষ নজর রাখছে, যে ভিডিওগুলি তিনি চ্যানেলে পোস্ট করেছিলেন।

এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশ জ্যোতি মালহোত্রার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে জ্যোতি ছাড়াও আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধেও পাকিস্তানি সংস্থার সঙ্গে গোপন তথ্য শেয়ার করার অভিযোগ রয়েছে।

এই গ্রেফতারি সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সাইবার জগতে গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঘটনাটি বর্তমানে দিল্লি পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে।