“উড়ে উড়ে যাতায়াত করবে ট্যাক্সি”-২০২৮ সালের মধ্যেই শুরু উড়ন্ত ট্যাক্সি পরিষেবা, জেনেনিন কোথায়?

২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের আকাশে ‘উড়ুক্কু ট্যাক্সি’ (Flying Taxi) দেখা যাবে। নতুন সরকারি পরিকল্পনার আওতায় এমনটাই দাবি করেছেন দেশটির পরিবহন মন্ত্রী মাইক কেন। ভবিষ্যতে আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে সরকার এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে চাইছে এবং এটি দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
দেশের পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে পরিবহন মন্ত্রী মাইক কেন বলেছেন, সরকার ভবিষ্যতের উড়ুক্কু প্রযুক্তির বিভিন্ন সুবিধা, বিশেষ করে উড়ুক্কু ট্যাক্সিকে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগাতে চায়। নতুন ধরনের আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা চালুর জন্য সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
গত মাসে যুক্তরাজ্য সরকার ড্রোন এবং উড়ুক্কু ট্যাক্সি পরিষেবার বিকাশের জন্য দুই কোটি পাউন্ড বরাদ্দ করার পরই দেশটির পরিবহন মন্ত্রীর কাছ থেকে এমন ঘোষণা এল বলে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগ বা ডিএফটি (Department for Transport) এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা সিএএ (Civil Aviation Authority)। এদের সহায়তা করছে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রতিষ্ঠিত ‘রেগুলেটরি ইনোভেশন অফিস’, যার লক্ষ্য হলো নিয়ম-কানুন সহজ করে আধুনিক প্রযুক্তি দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
এই স্বপ্নকে আরও এগিয়ে নিতে ২০২৪ সালের মার্চে ব্রিটিশ এয়ারলাইন ‘ভার্জিন আটলান্টিক’-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি ‘জোবি এভিয়েশন’ (Joby Aviation)। ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের লক্ষ্য হলো যুক্তরাজ্যজুড়ে পরিবেশবান্ধব ও স্বল্প দূরত্বের বিমানযাত্রার এক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে হিথ্রো ও ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে উড়ুক্কু ট্যাক্সির কেন্দ্র বসানোর, যেখানে জোবির বিদ্যুচ্চালিত এয়ার ট্যাক্সির ব্যবহার হবে। এই যানগুলি একজন পাইলট সহ মোট চারজন যাত্রী বহন করতে পারবে এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০০ মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। এই অংশীদারিত্ব যুক্তরাজ্যের বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে ভবিষ্যতের এই নতুন পরিবহন মাধ্যমকে যোগ করার পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে লেবার দলের এমপি অ্যালিস ম্যাকডোনাল্ড নরউইচ বিমানবন্দরের একটি প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন, যার লক্ষ্য হচ্ছে “পূর্ব ইংল্যান্ডকে বিমান প্রযুক্তির উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা।” তিনি পরিবহন মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, তিনি যেন “বিদ্যুচ্চালিত বিমানে চড়ে এই অভিজ্ঞতা নেন”।
জবাবে মন্ত্রী মাইক কেন বলেছেন, “সরকার চায় ভবিষ্যতের বিভিন্ন ফ্লাইট প্রযুক্তি যেমন উড়ুক্কু ট্যাক্সির সুবিধা কাজে লাগাক যুক্তরাজ্য। যাতে তা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সম্প্রতি সিএএ এবং ফিউচার ফ্লাইট চ্যালেঞ্জে দুই কোটিরও বেশি পাউন্ডের সরকারি তহবিল ঘোষণা করেছি। যাতে এ বছরের মধ্যে ফিউচার ফ্লাইট প্রোগ্রামটি বাস্তবায়ন করা যায়।” মন্ত্রী নিশ্চিত করেন, “শিল্প, সরকার ও সিএএ-এর মধ্যে এই যৌথ প্রোগ্রাম ২০২৭ সালের মধ্যে ড্রোন প্রযুক্তির সক্ষমতা এবং ২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের আকাশে উড়ুক্কু ট্যাক্সি দেখতে পাওয়ার কার্যক্রমকে উন্নত করবে।”
সব মিলিয়ে, যুক্তরাজ্য সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে উড়ুক্কু ট্যাক্সিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা সফল হলে তা দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।