পরকীয়ার কথা জেনে ফেলেছিল স্বামী! প্রাক্তন সেনাকর্মীকে কুচি কুচি করে কেটে নদীতে ভাসাল স্ত্রী

ফের একবার লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশ, যা মনে করিয়ে দিচ্ছে দিল্লির শ্রদ্ধা ওয়াকার হত্যাকাণ্ড বা সম্প্রতি মেরঠে একই ধরনের নৃশংসতার কথা। পরকীয়ার কথা জেনে ফেলায় এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করে দেহ ছয় টুকরো করে কেটে লোপাট করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বলিয়ার বাহাদুরপুরে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী, তার প্রেমিক এবং আরও দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত দেবেন্দ্র কুমার (৬০) অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী ছিলেন। তার স্ত্রী মায়া দেবী (৫০) স্থানীয় অনিল যাদব নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। সম্প্রতি দেবেন্দ্র কুমার তাদের এই সম্পর্ক জানতে পারেন এবং তাতে বাধা দেন। আর এটাই কাল হয় তার জন্য।
মায়া দেবী ও তার প্রেমিক অনিল যাদব দেবেন্দ্র কুমারকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতোই তারা দেবেন্দ্র কুমারকে নৃশংসভাবে খুন করে এবং তার দেহ ছয় টুকরো করে কেটে ফেলে। এরপর দেহাংশগুলি বালিয়া জেলার বিভিন্ন নদী ও কুয়োর আশেপাশে ফেলে দিয়ে আসে।
গত ১০ মে মায়া দেবী সালোনি পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে তার স্বামী নিখোঁজ হয়েছেন বলে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান যে দেবেন্দ্র কুমার বিহারের বক্সার রেল স্টেশন থেকে মেয়েকে আনতে গিয়েছিলেন এবং তারপর থেকেই নিখোঁজ। তার ফোনও সুইচ অফ।
একই দিনে খারিদ গ্রামের কাছে একটি নদীতে একটি কাটা হাত ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। এর দু’দিন পর পাশের একটি কুয়ো থেকে কাটা ধড় উদ্ধার হয়। দেহাংশ উদ্ধারের পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ মায়া দেবীকে জেরা শুরু করে। জেরার মুখে মায়া দেবী ভেঙে পড়ে এবং তার অপরাধ স্বীকার করে নেয়। সে পুলিশকে জানায় যে প্রেমিক অনিল যাদব এবং আরও দুই সহযোগী তাকে এই কাজে সাহায্য করেছিল।
মায়া দেবীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ অনিল যাদব এবং তার দুই সহযোগী সতীশ যাদব ও মিথিলেশ প্যাটেলকে গ্রেফতার করার জন্য অভিযান চালায়। পুলিশ জানিয়েছে, অনিল যাদব গ্রেফতার এড়াতে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিতে তার পায়ে আঘাত লাগে এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। অপর দুই অভিযুক্ত সতীশ যাদব ও মিথিলেশ প্যাটেলকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ এখনও দেবেন্দ্র কুমারের কাটা মুণ্ড উদ্ধার করতে পারেনি। ঘাগড়া নদীতে ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পরকীয়ার বলি আরও একজন, এই ঘটনা আবারও সামনে আনল বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের ভয়াবহ পরিণতি। পুলিশ ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছে।