তুরস্ক থেকে আপেল আমদানি বৃদ্ধি! সংকটের মুখে ভারতীয় আপেল চাষিরা, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি

‘প্রতিদিন একটি আপেল চিকিৎসককে দূরে রাখে’—এই জনপ্রিয় ইংরাজি প্রবাদটি আপেলের স্বাস্থ্যগুণ এবং প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে। আর এই গুণাগুণের কারণেই ভারতে আপেলের বাজার বিশাল। ধনী-গরিব নির্বিশেষে প্রায় সব ভারতীয়র ফলের তালিকায় আপেল একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ভারতের প্রধান আপেল উৎপাদনকারী রাজ্যগুলি হলো হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং জম্মু ও কাশ্মীর। এই রাজ্যগুলিতে বিস্তৃত আপেল বাগান রয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ আপেল চাষের উপর নির্ভরশীল। তবে বর্তমানে ভারতীয় আপেল চাষিরা এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছেন, যার প্রধান কারণ হলো তুরস্ক থেকে রেকর্ড সংখ্যক আপেল আমদানি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পর থেকে তুরস্ক থেকে ভারতে আপেল আমদানি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালে যেখানে তুরস্ক থেকে মাত্র ২০৫ টন আপেল আমদানি করা হয়েছিল, সেখানে গত বছরে এই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৬৬৩ টনে। এই বিপুল পরিমাণ বিদেশি আপেল দেশের বাজার ছেয়ে ফেলেছে, যা সরাসরি দেশীয় আপেল চাষিদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের আপেল চাষিদের অভিযোগ, তুরস্কের আপেল এখন ভারতের বাজারে তাঁদের উৎপাদিত আপেলের চেয়ে অনেক বেশি সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। এর ফলে ভারতীয় আপেলের চাহিদা এবং দাম কমে গেছে, যার পরিণামে চাষিরা মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। শুধু জীবিকাই নয়, আপেল চাষ এই অঞ্চলের মানুষের কাছে একটি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং বহু প্রজন্মের পেশা। তুরস্কের আপেলের দাপটে তাঁদের এই ঐতিহ্য আজ গভীর সংকটে।
এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজেদের বাজার ও জীবিকা বাঁচাতে হিমালয়ের রাজ্যগুলির আপেল চাষিরা এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছেন, অবিলম্বে তুরস্ক থেকে আপেল আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করার জন্য নির্দেশ জারি করা হোক। তাঁদের বিশ্বাস, তুরস্ক থেকে আমদানি বন্ধ হলে ভারতীয় আপেলের বাজার আবার চাঙ্গা হবে এবং তাঁরা আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোয় আন্তর্জাতিক মহলে তুরস্কের বিরুদ্ধে এক ধরণের বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে এবং অনেকে ‘বয়কট তুরস্ক’র ডাক দিয়েছেন। ঠিক এই আবহেই ভারতীয় আপেল চাষিদের তুরস্ক থেকে আপেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁদের এই আবেদন বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আরও বেশি জোরালো হয়েছে কিনা, সেই প্রশ্নও উঠছে। এখন দেখার বিষয়, আপেল চাষিদের এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় সরকার কতটা তৎপর হয় এবং তাঁদের আবেদনে সাড়া দেয় কিনা।