“পাকিস্তানকে খোলাখুলিভাবে সমর্থন”-এবার তুর্কির এক সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিষেবা প্রদানকারী তুরস্কের সংস্থা ‘সেলেবি এভিয়েশন’ এবার বড় ধাক্কা খেল। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের সময় তুরস্ক খোলাখুলিভাবে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল, যার প্রেক্ষিতে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই তুর্কি সংস্থার ভারতীয় শাখার সিকিওরিটি ক্লিয়ারেন্স বা নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করার নির্দেশ জারি করেছে ভারত সরকার।
বৃহস্পতিবার ব্যুরো অফ সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি (বিসিএএস) অবিলম্বে ‘সেলেবি এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’-এর নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করার নির্দেশ জারি করেছে। বিসিএএস স্পষ্ট জানিয়েছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্সি বিভাগের অধীনে এই ছাড়পত্র তুর্কি সংস্থাটিকে দেওয়া হয়েছিল।
সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ চলাকালীন তুরস্কের প্রকাশ্য পাকিস্তান সমর্থন এবং অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানি হামলায় তুরস্কের ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসার পরেই সেলেবির মতো একটি বিদেশি সংস্থার ভারতীয় বিমানবন্দরে সংবেদনশীল কাজ করা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
কারা এই সেলেবি এভিয়েশন?
সেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং হলো তুরস্কের প্রথম বেসরকারি মালিকানাধীন গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সংস্থা, যা ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি দ্রুত একটি বিশ্বমানের উড়ান পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থায় পরিণত হয়। তারা ৩টি মহাদেশের ৬টি দেশের ৭০টি বিমানবন্দরে কাজ করে, যেখানে ১৫,০০০-এরও বেশি কর্মচারী রয়েছে।
ভারতে সেলেবি এভিয়েশন:
গত এক দশকে ভারতে সেলেবির কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছিল। তারা ভারতে দুটি পৃথক সংস্থা খুলেছিল – গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ‘সেলেবি এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস ইন্ডিয়া’ এবং দিল্লি বিমানবন্দরে কার্গো পরিচালনার জন্য ‘সেলেবি দিল্লি কার্গো টার্মিনাল ম্যানেজমেন্ট ইন্ডিয়া’। বৃহস্পতিবারের আগে পর্যন্ত দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, আহমেদাবাদ, গোয়া, কোচি এবং কান্নুর-সহ ৯টি প্রধান ভারতীয় বিমানবন্দরে তাদের উপস্থিতি ছিল। বছরে ৫৮,০০০-এরও বেশি ফ্লাইট এবং ৫,৮০,০০০ টনেরও বেশি কার্গো পরিচালনা করত তারা। ভারতে সেলেবির প্রায় ৭,৮০০ কর্মচারী ছিল।
ভারতে কী কাজ করত সেলেবি এভিয়েশন?
ভারতীয় বিমানবন্দরগুলিতে সেলেবি বেশ কিছু সংবেদনশীল এবং হাই-সিকিওরিটি কাজ করত। এর মধ্যে ছিল র্যাম্প পরিষেবা, বিমানের ভারসাম্য সঠিক রাখা নিশ্চিত করতে লোড নিয়ন্ত্রণ এবং ফ্লাইট পরিচালনার কাজ, পাসেঞ্জার বোর্ডিং ব্রিজ পরিচালনা, ওয়্যারহাউস ম্যানেজমেন্ট, পণ্যসম্ভার এবং ডাক পরিষেবা – যার সবকটিতেই কঠোর সুরক্ষা প্রোটোকল মেনে চলতে হয়। এছাড়াও তারা বিভিন্ন ব্যক্তিগত বা ভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনার কাজেও যুক্ত ছিল। নিরাপদে এবং দক্ষ ভাবে বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য এই কাজগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘বয়কট তুরস্ক’ ট্রেন্ড:
ভারত-পাক সংঘাতের আবহে তুরস্কের পাকিস্তান সমর্থনের জেরে ভারতীয়দের মধ্যে তুরস্ককে বয়কটের একটি ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে। সংঘর্ষ বিরতির ঘোষণা হলেও, তুরস্কের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের ক্ষোভ প্রশমিত হচ্ছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে তুরস্কে ভ্রমণ না করার এবং তুর্কি পণ্য বর্জনের ডাক দিচ্ছেন। এই আবহে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সমঝোতা চুক্তিও স্থগিত করে দিয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারত যে কোনও বিদেশি সংস্থার ক্ষেত্রে আপস করবে না, সেলেবির ছাড়পত্র বাতিল করে কেন্দ্রীয় সরকার সেই কড়া বার্তাই দিল। এই সিদ্ধান্ত ভারতের বিমানবন্দরগুলির নিরাপত্তা জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।