“কে সংঘর্ষ বিরতি চাইছিল তা এই ছবিতেই স্পষ্ট…”-স্যাটেলাইট ছবি দেখিয়ে পাকিস্তানকে কটাক্ষ জয়শঙ্করের

পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ বিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসলামাবাদ থেকে যে ‘বিজয়ের উল্লাস’ এবং ‘ভারতের পিছু হটার’ দাবি করা হয়েছিল, তা সরাসরি তথ্য-প্রমাণ দিয়ে উড়িয়ে দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং সামরিকভাবে পাকিস্তান এতটাই বিধ্বস্ত ছিল যে তারাই মরিয়া হয়ে সংঘর্ষ বিরতির দাবি তুলেছিল।

বৃহস্পতিবার এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর পাকিস্তানের দাবির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “স্যাটেলাইট ছবিতেই স্পষ্ট, কতটা বিধ্বস্ত পাকিস্তান। কতটা ক্ষতি হয়েছে পাক সেনা ঘাঁটিগুলির। এতে সন্দেহের কোনও জায়গাই নেই যে, ১০ মে কারা প্রথম সংঘর্ষ বিরতির দাবি তুলেছিল।” পহেলগাম জঙ্গি হানার জবাবে ভারতের সামরিক পদক্ষেপ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এই প্রথম প্রকাশ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করলেন এস জয়শঙ্কর।

সংঘর্ষ বিরতি কার্যকর হওয়ার পর পাকিস্তানে, বিশেষ করে পাক সেনা কর্মী এবং কিছু সেলিব্রিটিদের মধ্যে রীতিমতো উৎসব শুরু হয়ে যায়। তারা দাবি করতে থাকেন যে ভারত যুদ্ধ ছেড়ে পিছু হটেছে এবং এটি পাকিস্তানের বিজয়। ইসলামাবাদে যেন প্রায় জয়ের আনন্দে অকাল দিওয়ালি লেগে গিয়েছিল। কিন্তু জয়শঙ্কর এই দাবীকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রমাণ করেছেন।

বিদেশমন্ত্রী জানান, পহেলগাম জঙ্গি হামলার জবাবে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারতের হামলার পর দিল্লি কূটনৈতিক স্তরে পাকিস্তানের প্রশাসন ও সেনাকে স্পষ্ট করে সতর্ক করেছিল এই সংঘাতে না জড়াতে। ভারতের লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র পাকিস্তানে থাকা জঙ্গিরা, কোনও ভাবেই সে দেশের সরকার বা সেনাবাহিনী নয়। কিন্তু পাকিস্তান এই পদক্ষেপকে নিজেদের উপর হামলা বলে ব্যাখ্যা করে পাল্টা ভারতীয় ভূখণ্ডের উপর আক্রমণ শুরু করে। নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গুলি-গোলা, ড্রোন হানা এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অসামরিক বিমান হানার মতো ঘটনাও ঘটাতে থাকে পাকিস্তান।

ভারতও তার উপযুক্ত জবাব দেয়। প্রাথমিকভাবে সংযম দেখালেও, ভারতীয় নাগরিক ও সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে লাগাতার হামলা শুরু করার পরই ভারত পাক সেনা ঘাঁটিকে টার্গেট করে পাল্টা আক্রমণ করে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের কোনও হামলাই ভারতের কোনও সেনাঘাঁটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি। প্রতিটা হামলাই ব্যর্থ হয়েছিল।

সামরিকভাবে এতটা অ্যাডভান্স পজিশনে থাকা সত্ত্বেও কেন ভারত সংঘর্ষ বিরতি মানার শর্তে রাজি হলো, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। এমনকি জাতির উদ্দেশে ভাষণের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখে ‘নিউক্লিয়ার ব্ল্যাকমেল’-এর প্রসঙ্গ আসতেই অনেকে প্রশ্ন করেছিলেন পরমাণু অস্ত্র দেখিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনও চাপ এসেছিল কী না।

কিন্তু সমস্ত তথ্য প্রমাণ সামনে রেখে বিদেশ মন্ত্রক ও সেনার তরফে বার বার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, সামরিকভাবে পাকিস্তান এতটাই খারাপ অবস্থায় ছিল যে তারাই সংঘর্ষ বিরতির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ বন্ধ করার আবেদন তাদের পক্ষ থেকেই এসেছিল। ভারত যুদ্ধ বাড়াতে চায়নি, তাই শান্তি ও সংঘর্ষ বিরতির পথেই হেঁটেছে।

বিদেশমন্ত্রী জানান, ভারতের প্রত্যাঘাতে পাকিস্তানের বায়ুসেনার পরিকাঠামোর প্রায় ২০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যায়। এক স্কোয়াড্রন লিডার-সহ ৩৫-৪০ জনেরও বেশি বায়ুসেনা সদস্যের মৃত্যু হয়। ভারতীয় সামরিক বাহিনী পাকিস্তানের ১১টি এয়ারবেসে এবং তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমে হামলা চালিয়েছিল, যা তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়।

বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের এই মন্তব্য পাকিস্তানের মিথ্যা দাবিকে খণ্ডন করে ভারতের সামরিক শক্তি, কূটনৈতিক অবস্থান এবং তথ্য-প্রমাণ নির্ভর নীতিরই প্রতিফলন।