“আমরা আর পরীক্ষা দেব না”-বিকাশ ভবনের গেট ভেঙে চাকরিহারাদের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা

রাজ্য সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির জেরে চাকরি হারানো যোগ্য শিক্ষকদের আন্দোলন বৃহস্পতিবার নতুন এবং হিংসাত্মক মোড় নিল। সল্টলেকের বিকাশ ভবন চত্বরে অবস্থানরত শত শত চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা মূল গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কয়েক জন আন্দোলনকারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত কয়েকদিন ধরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলার পর আজ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়।
চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের অভিযোগ, তাদের চাকরি অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং রাজ্য সরকারের গাফিলতির তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ি। তারা সাফ জানিয়েছেন, নতুন করে তারা কোনো পরীক্ষায় বসবেন না। তাদের আগের মতো দ্রুত কাজে বহাল করতে হবে। এই দাবিতে তারা রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
আন্দোলনের মধ্যেই এদিন বিকাশ ভবনের কাছে যান তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। তাকে দেখেই আন্দোলনকারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সব্যসাচী দত্তকে উদ্দেশ্য করে “চোর চোর” স্লোগান দেওয়া শুরু হয়, যা এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সব্যসাচী দত্তের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা তাকে কোনোমতে নিরাপদে এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।
এই মামলার আইনি প্রেক্ষাপটও জটিল। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হননি এমন শিক্ষকদের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরি বহাল থাকবে। তবে তার আগে মে মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় আসার পর থেকেই চাকরিহারারা নতুন করে আন্দোলন শুরু করেন। তাদের মূল দাবি ছিল, একবার কষ্ট করে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পাওয়ার পর আর নতুন করে পরীক্ষা দেবেন না, বরং তাদের আগের পদে পুনর্বহাল করা হোক।
এদিকে, রাজ্য সরকার এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে একটি রিভিউ পিটিশন জমা করেছে। চাকরিহারাদের অভিযোগ, এক্ষেত্রেও তাদের ধোঁয়াশায় রাখা হয়েছে। রিভিউ পিটিশন কেন করা হয়েছে, তাতে কী বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে—এসব সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল নন। সেজন্য তারা রাজ্য সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে চান। যদিও রাজ্য সরকারের তরফে চাকরিহারাদের আন্দোলন বা তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেননি।
চাকরি যাওয়ার পর থেকেই দফায় দফায় আন্দোলন করে চলেছেন এই শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাদের দাবি, যদি আগের মতো তাদের কাজে ফের বহাল করার সুযোগ না দেওয়া হয় এবং তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে এই আন্দোলনকে আরও বড়সড় আকার দেওয়া হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে বিকাশ ভবন চত্বরের সামনে তাদের অবস্থান শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু বৃহস্পতিবার তা অপ্রত্যাশিতভাবে সহিংস হয়ে ওঠে। এই ঘটনা রাজ্য সরকার এবং চাকরিহারা শিক্ষকদের মধ্যে চলমান অচলাবস্থাকে আরও বাড়িয়ে দিল।