পাকিস্তানের বন্ধু তুরস্ক-আজারবাইজান, এবার ভ্রমণ বয়কট করছেন ভারতীয় ট্যুরিস্টরা

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোয় তুরস্ক ও আজারবাইজানের ওপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ভারতীয় নাগরিকেরা। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পর্যটন শিল্পে। ভারতীয় পর্যটকদের একটি বড় অংশ এখন তুরস্ক ও আজারবাইজান ভ্রমণ এড়িয়ে চলছেন, যার ফলে এই দেশগুলিতে ভ্রমণের বুকিং কমেছে এবং বাতিল হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
ভারতীয়দের এই ক্ষোভের মূল কারণ হলো, সম্প্রতি তুরস্ক এবং আজারবাইজান প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে। বিশেষ করে, ২২ এপ্রিল পাহেলগাঁও-এ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিরীহ নাগরিক শহীদ হওয়ার পর ভারত গত ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অংশ হিসেবে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (POK) সন্ত্রাসবাদী শিবিরগুলিতে সামরিক হামলা শুরু করে। এই হামলার তীব্র নিন্দা জানায় তুরস্ক ও আজারবাইজান। অভিযোগ রয়েছে যে, সংঘাতে তুরস্কের তৈরি অস্ত্র (যেমন ড্রোন) ব্যবহার করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি, ২০২৩ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর তুরস্ককে ভারত যে ব্যাপক মানবিক সহায়তা প্রদান করেছিল, সেই বিষয়টি তুলে ধরে অনেক ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং অন্য প্ল্যাটফর্মে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে দেশের অন্যতম বৃহৎ ট্যুরিজম অ্যাপ MakeMyTrip একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। বুধবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, “আমাদের জাতির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে এই দুই দেশে ভ্রমণ এড়িয়ে যাওয়াকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি।” MakeMyTrip প্রয়োজন ছাড়া আজারবাইজান এবং তুরস্কে ভ্রমণ না করার জন্য গ্রাহকদের পরামর্শ দিয়েছে। এমনকি, এই দুই দেশে ভ্রমণের জন্য কোনও প্রচার বা অফারও তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। MakeMyTrip সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে তুরস্ক ও আজারবাইজানে ভ্রমণের জন্য বুকিংয়ের সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে, অন্যদিকে বাতিল হওয়া বুকিংয়ের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২৫০ শতাংশ।
MakeMyTrip-এর পাশাপাশি EaseMyTrip এবং Ixigo-এর মতো অন্যান্য ভ্রমণ প্ল্যাটফর্মগুলিও একই ধরনের মনোভাব দেখিয়েছে এবং তাদের গ্রাহকদের এই দেশগুলিতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ জারি করেছে। শুধু ভ্রমণ প্ল্যাটফর্মই নয়, ‘গো হোমস্টেস’ নামক একটি সংস্থা তুরস্ক এয়ারলাইন্সের সঙ্গে তাদের পার্টনারশিপ শেষ করে দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এয়ারলাইন্সটি ভারতের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ নয় এমন একটি দেশকে সমর্থন করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা আর তাদের আন্তর্জাতিক প্যাকেজে তুরস্ক এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত করবে না।
পর্যটন খাতের বাইরেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জানা গেছে, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা তুরস্ক থেকে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের আমদানি বর্জন শুরু করেছেন। বিশেষ করে আপেল এবং মার্বেলের মতো পণ্য, যা উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসার মূল অংশীদার। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, এই ঘটনার জেরে তুরস্ক এবং আজারবাইজানের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনের সম্মুখীন হতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত তুরস্কের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ছিল ৮.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে আজারবাইজানের সঙ্গে বাণিজ্য এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। সব মিলিয়ে, পাকিস্তান ইস্যুতে তুরস্ক ও আজারবাইজানের অবস্থান ভারতীয়দের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি করেছে, যার প্রভাব এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্পষ্ট হচ্ছে।