কাশ্মীরে এনকাউন্টারে আরও ৩ জঙ্গি নিকেশ, উপত্যকাজুড়ে চলছে ব্যাপক সেনা অভিযান

জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার ত্রালে নিরাপত্তা বাহিনী এবং জঙ্গিদের মধ্যে এক সংঘর্ষে ৩ জন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) জঙ্গি নিহত হয়েছে। এটি গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুলওয়ামায় নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বিতীয় সফল অভিযান।

জানা গেছে, ত্রালের নাদির গ্রামে জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকা ঘিরে ফেলে। জঙ্গিরা লুকিয়ে আছে এমন খবর পাওয়ার পর শুরু হয় তল্লাশি অভিযান, যা পরে এনকাউন্টারে রূপ নেয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় জইশ-ই-মহম্মদের দুই থেকে তিনজন জঙ্গি লুকিয়ে ছিল। দীর্ঘক্ষণ গুলির লড়াইয়ের পর তিনজন জঙ্গিকে নিকেশ করা সম্ভব হয়।

নিহত ৩ জইশ জঙ্গির পরিচয় জানা গেছে। তারা হলো আসিফ আহমেদ শেখ, আমির নাজির ওয়ানি এবং ওমর আহমেদ ভাট। এরা তিনজনই ত্রালের স্থানীয় বাসিন্দা।

এর আগে, মঙ্গলবার শোপিয়ান জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অন্য একটি অভিযানে তিন লস্কর-ই-তৈবা (LeT) জঙ্গি নিহত হয়েছিল। জিনপাথের কেলার এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন কেলার’। নিরাপত্তা বাহিনী কৌশলগতভাবে এলাকাটি ঘিরে ফেলে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালেও তারা গুলি চালাতে শুরু করে।

শোপিয়ানে নিহত লস্কর জঙ্গিদের মধ্যে একজন ছিল শহীদ কুট্টে, যে শোপিয়ানের বাসিন্দা। সে ২০২৩ সালের ৮ মার্চ লস্করে যোগ দিয়েছিল এবং ২০২৪ সালের ১৮ মে শোপিয়ানের হিরপোরায় একজন বিজেপি সরপঞ্চের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। দ্বিতীয় জঙ্গি ছিল আদনান শফি দার, যে শোপিয়ানের ওয়ান্ডুনা মেলহোরার বাসিন্দা। সে ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর লস্করে যোগ দেয় এবং একই দিনে শোপিয়ানে একজন অ-স্থানীয় শ্রমিকের হত্যার সাথে জড়িত ছিল।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পহেলগাঁও হামলায় জড়িত জঙ্গিদের সন্ধানে কাশ্মীর উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনী জোরদার অভিযান চালাচ্ছে। শোপিয়ানের অনেক এলাকায় পহেলগাঁও হামলায় জড়িত জঙ্গিদের পোস্টার লাগানো হয়েছে এবং তাদের সম্পর্কে তথ্য প্রদানকারীকে ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। পহেলগাঁওয়ে নিরীহ পর্যটকদের মৃত্যুর জন্য দায়ী পাকিস্তানি জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে সেনাবাহিনী তল্লাশি অভিযান আরও তীব্র করেছে।

জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গিবাদ দমনে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুটি পৃথক এনকাউন্টারে মোট ৬ জন জঙ্গির নিহত হওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।