OMG! ৩ বছর বয়সে অ্যাসিড হামলা, চোখ হারিয়েও CBSE-তে ৯৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে সে-ই টপার

জীবনের শুরুতেই এক ভয়াবহ আঘাত। মাত্র তিন বছর বয়সে তিন প্রতিবেশীর অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছিল হরিয়ানার হিসারের এক ছোট্ট মেয়ে। সেই হামলার ক্ষত তার শরীরজুড়ে, কিন্তু সবচেয়ে মর্মান্তিক আঘাত ছিল তার ছোট্ট চোখ দু’টোয়। ডাক্তারবাবুরা প্রাণ বাঁচাতে পারলেও, সেই চোখের আলো রক্ষা করতে পারেননি। চোখের সামনেই চিরতরে নেমে এসেছিল অন্ধকার। কিন্তু সেই শারীরিক অন্ধকারই যেন তার ভেতরের আলোটাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। প্রবল প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে সেই মেয়েটি আজ দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় ৯৫.৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছে।

হরিয়ানার হিসারের এই লড়াকু কিশোরীর বয়স এখন ১৭ বছর। চণ্ডীগড়ের একটি ব্লাইন্ড স্কুল থেকে সে এ বছর ১২ ক্লাসের পরীক্ষা দিয়েছিল। প্রকাশিত ফলাফলে সে শুধু চমৎকার ফলই করেনি, স্কুলের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। তার স্বপ্ন অনেক বড় – সে চায় দিল্লি ইউনিভার্সিটিতে পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করতে এবং ভবিষ্যতে একজন আইএএস অফিসার হতে।

২০১১ সালের ঘটনা। মাত্র তিন বছর বয়স ছিল তার। দোলের দিন পাড়ারই তিন যুবক পুরনো বিবাদের জেরে ছোট্ট মেয়েটির উপর অ্যাসিড ছুড়ে মারে। নৃশংস সেই হামলায় তার হাত, মুখ, গলার চামড়া দলা পাকিয়ে পুড়ে গিয়েছিল। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করেন, কিন্তু তার জন্য চোখ দু’টো আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চোখের দৃষ্টি হারানোর সেই কঠিন সময়েও তার পরিবার, বিশেষ করে বাবা-মা, ছিলেন তার পাশে পাহাড়ের মতো।

কিশোরীর বাবা পেশায় একজন সামান্য পিওন, আর মা গৃহবধূ। দু’জনেই মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু মেয়ের প্রতি তাঁদের ভালবাসা আর স্বপ্ন ছিল অনেক বড়। চোখের সামনে মেয়ের পোড়া শরীর, চিরতরে দৃষ্টি হারানো দেখেও তাঁরা হার মানেননি। মেয়েকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন তাঁরা ত্যাগ করেননি কোনোদিন।

মেয়েকে নিয়ে তাঁরা চণ্ডীগড়ে যান এবং সেখানে একটি ব্লাইন্ড স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। ধীরে ধীরে মেয়েটি বড় হতে থাকে, বুঝতে পারে জীবন কতটা কঠিন হতে পারে, কিন্তু তার কাছে অসম্ভব নয়। অডিও বুক এবং ব্রেইলের সহায়তায় সে পড়াশোনা চালিয়ে যায়। তার স্কুলের শিক্ষকরা জানান, এই অসামান্য সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার অদম্য জেদ, কঠোর নিষ্ঠা এবং একাগ্রতা। জীবনের শুরুতে এত বড় বিপর্যয় সত্ত্বেও সে যে লড়াই চালিয়ে গেছে, তার ফলস্বরূপই সে আজ এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। এই কিশোরীর গল্প কেবল নম্বর বা রেজাল্টের নয়, এটি শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে মনের জোরে এগিয়ে যাওয়ার এক প্রেরণাদায়ক উপাখ্যান।