“সিন্ধু জল চুক্তি দয়াকরে পুনর্বিবেচনা করুন”-ভারতকে ‘হাতে পায়ে ধরে’ অনুরোধ করলো পাকিস্তান

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পর ভারত সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই হামলার পরপরই ভারত প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Water Treaty) পুনর্বিবেচনা বা এমনকি তা বন্ধ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। ভারতের এই আকস্মিক ঘোষণায় ইসলামাবাদে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানের জল সম্পদ মন্ত্রক আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে এই সিদ্ধান্ত সে দেশে ভয়াবহ জল সংকট ডেকে আনতে পারে।
জানা গেছে, ভারতের ঘোষণার পর পাকিস্তানের জল সম্পদ মন্ত্রক অবিলম্বে ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রককে একটি চিঠি পাঠিয়ে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন জানিয়েছে। নিয়মানুযায়ী, এই আবেদনপত্রটি ভারতের বিদেশ মন্ত্রকেও পাঠানো হয়েছে। তবে দিল্লি সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারত সরকার পাকিস্তানের এই আবেদনকে স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে দিয়েছে।
ভারতের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য থেকেও। সম্প্রতি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি সাফ জানিয়ে দেন – “রক্ত এবং জল একসঙ্গে বইতে পারে না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের প্রেক্ষিতে ভারতের অনড় অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
সিন্ধু জল চুক্তি: ইতিহাস ও বাস্তবতা
উল্লেখ্য, সিন্ধু জল চুক্তি একটি ঐতিহাসিক চুক্তি যা ১৯৬০ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের মধ্যে করাচিতে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু ও তার উপনদীগুলির জল দুই দেশের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
চুক্তি অনুযায়ী, শতদ্রু (Sutlej), বিয়াস (Beas) এবং রাভি (Ravi) নদীর উপর ভারতের পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়। অন্যদিকে, সিন্ধু (Indus), ঝিলাম (Jhelum) এবং চেনাব (Chenab) নদীর উপর পাকিস্তানের অধিকার স্বীকৃত হয়। এই চুক্তির অধীনে পাকিস্তান সিন্ধু নদী অববাহিকার প্রায় ৮০ শতাংশ জল ব্যবহার করার অনুমতি পায়, যেখানে ভারত তার প্রাপ্য ১৯.৫ শতাংশ অংশেরও সম্পূর্ণটা ব্যবহার করে না।
দীর্ঘদিন ধরে এই চুক্তি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে জল বণ্টন নিয়ে আন্তর্জাতিক শান্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। তবে পহেলগাঁওয়ের মতো সন্ত্রাসবাদী ঘটনাগুলোর পর ভারতের বর্তমান কঠোর অবস্থান এই পুরনো জল রাজনীতির ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ভারতের এই সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের জল সংকট আরও বাড়তে পারে কিনা, এখন সেদিকেই নজর সবার।