ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য, দেশজুড়ে উদযাপন BJP-র

কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার কঠোর জবাব হিসেবে ভারতীয় সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যকে দেশজুড়ে উদযাপন করছে বিজেপি। এই অভিযানের সামরিক সাফল্যের পাশাপাশি এর নামকরণের নেপথ্যে থাকা গভীর প্রতীকীবাদকেও সামনে আনছে শাসক দল। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, ওড়িশার মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে এই উদযাপন কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সেনাবাহিনীকে কুর্নিশ জানাতে পথে নেমেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীরা।

নামকরণের নেপথ্যে আবেগ:
জানা গেছে, পাহেলগাঁওয়ের সন্ত্রাসী হামলাকারীরা বেছে বেছে হিন্দুদের উপর আক্রমণ চালিয়েছিল। বিশেষ করে ২২ এপ্রিলের ঘটনায় মহিলারা অভিযোগ করেছিলেন, তাদের মাথায় সিঁদুর দেখেই জঙ্গিরা গুলি চালিয়েছিল। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বদলা নিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী যে অভিযান চালায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারই কোড নেম দেন ‘অপারেশন সিঁদুর’।

হিন্দু বিবাহিত মহিলাদের কাছে সিঁদুর তাঁদের বিবাহিত জীবনের চিহ্ন এবং স্বামীর প্রতি ভালবাসার প্রতীক। ২২ এপ্রিলের হামলায় বহু সদ্য বিবাহিত মহিলাও আক্রান্ত হয়েছিলেন, যাদের হাতের মেহেন্দির রং মুছে যাওয়ার আগেই সিঁদুর মুছে গিয়েছিল স্বামীর মৃত্যুর কারণে। বিশেষ করে নিহত নৌসেনা অফিসার বিনয় নারওয়ালের স্ত্রী হিমাংশি নারওয়ালের শোকাহত ছবিটি এই হত্যাকাণ্ডের এক বেদনাদায়ক প্রতীক হয়ে উঠেছিল। মাথায় সিঁদুর দেখে হামলা চালানোর ঘটনাকে ‘সিঁদুরের অপমান’ হিসেবেই দেখছে বিজেপি এবং এই অপারেশনের নামকরণের মাধ্যমে সেই অপমানের প্রতিশোধ ও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাকেই তুলে ধরা হয়েছে। ভারতীয় সেনার প্রকাশিত ‘OPERATION SINDOOR’ লোগোটিতেও এই প্রতীকী অর্থ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যেখানে একটি ‘O’-এর মধ্যে সিঁদুর কৌটো এবং দ্বিতীয় ‘O’-র বাইরে ছড়িয়ে থাকা সিঁদুর দেখা যায়।

রাজনৈতিক উদযাপন ও বার্তা:
এই সাফল্য এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রতীকীবাদকে সামনে রেখেই বিজেপি দেশজুড়ে উদযাপন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তিরঙ্গা যাত্রায় অংশ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ভারতকে কেউ আঘাত করলে তাকে ছাড়া হবে না। ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়াম থেকে তিরঙ্গা যাত্রার সূচনা করেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি এবং নিজেও র‍্যালিতে অংশ নিয়েছেন। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামীও দেহরাদুনে তিরঙ্গা শৌর্য সম্মান যাত্রায় অংশ নিয়ে সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য উদযাপন করে বিজেপি একদিকে যেমন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্ষমতাকে তুলে ধরছে, তেমনই এর নামের মাধ্যমে পাহেলগাঁওয়ের নৃশংসতার বিরুদ্ধে একটি জোরাল প্রতীকী ও আবেগী বার্তা দিচ্ছে যা দলের রাজনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, ভারতের সার্বভৌমত্বে আঘাত বা ভারতীয়ত্বের কোনও প্রতীকের উপর আঘাত হানলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে।