অপারেশন সিঁদুরের পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাল্টা জবাব, পাক সেনার JF-17 এবং F-16 বিমানে

‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের পর গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হয়। তবে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী পাকিস্তানের এই হামলাগুলো সফলভাবে প্রতিহত করে দেয়। এই আকাশপথের লড়াইয়ে ভারতীয় সেনা পাকিস্তানের তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানকে গুলি করে ধ্বংস করে দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ধ্বংস হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ (F-16) এবং দুটি চিনের তৈরি জেএফ-১৭ (JF-17) জেট ছিল। জানা গিয়েছে, ভারত তার অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ (S-400) ব্যবহার করে এই তিনটি যুদ্ধবিমানকে রুখে দিয়েছে।
এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ কতটা শক্তিশালী?
এই পরিস্থিতিতে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের যে এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানগুলোকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে গণ্য করা হয়, সেগুলো কেন ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে মুহূর্তের জন্যও টিকতে পারল না? এটি অবশ্য প্রথমবার নয় যে ভারতীয় বায়ুসেনা মার্কিন তৈরি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে পরাজিত করেছে; এর আগেও অন্তত দুবার এমন ঘটনা ঘটেছে। এফ-১৬ কে সাধারণত বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং শক্তিশালী যুদ্ধবিমানগুলির একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যা যেকোনো ধরনের আক্রমণ পরিচালনা ও মোকাবিলা করতে সক্ষম।
এফ-১৬ এর বৈশিষ্ট্য:
এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘ফ্লাই-বাই-ওয়্যার’ (Fly-by-Wire) কন্ট্রোল সিস্টেম। এটি একই সঙ্গে ৬টি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে উড়তে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ২ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশের কাছে বর্তমানে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান রয়েছে। এই দেশগুলোর তালিকায় পাকিস্তানও অন্তর্ভুক্ত, যেখানে ভারত এটিকে ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে।
জেএফ-১৭: সাশ্রয়ী ও হালকা যুদ্ধবিমান:
অন্যদিকে, পাকিস্তানের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান হলো জেএফ-১৭ থান্ডার (JF-17 Thunder)। এটি একটি হালকা এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী যুদ্ধবিমান, যা পাকিস্তান চিনের সহায়তায় যৌথভাবে তৈরি করেছে। এই যুদ্ধবিমানকে পাক বায়ুসেনার মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি চতুর্থ প্রজন্মের একটি একক ইঞ্জিনবিশিষ্ট যুদ্ধবিমান এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রে সজ্জিত। জেএফ-১৭ জেটটি আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোমা বহন করতে সক্ষম।
পাকিস্তান বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্তি:
জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানটি ২০০৭ সালে পাকিস্তান বায়ুসেনায় যুক্ত হয়। এটি ২৩ মিমি জিএসএইচ-২৩-৩ টুইন ব্যারেল গান দিয়ে সজ্জিত। ড্রপ ট্যাঙ্ক সহ এই ফাইটার জেটের সর্বোচ্চ পাল্লা ৩৪৮২ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ টেক অফ ওজন ১৩,৫০০ কিলোগ্রাম। পাকিস্তান মূলত তাদের পুরোনো তৃতীয় প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলোর আধুনিকীকরণের জন্যই জেএফ-১৭ তৈরি করেছিল।
তবে, কাগজে-কলমে শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক আকাশযুদ্ধে ভারতের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধ কৌশল যে এই যুদ্ধবিমানগুলোকেও অকার্যকর করতে পারে, সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।