মিলল CAA সার্টিফিকেট, কৃতজ্ঞতা জানালো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ মোদিকে, পহেলগাঁও হামলায় স্বামীহারা সোহিনী

পহেলগাঁওয়ে মর্মান্তিক সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিজের স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি। এক নিমেষে তাঁর সাজানো সংসার তছনছ হয়ে গেছে। গত ২২ এপ্রিল জঙ্গিদের গুলিতে যে ২৬ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন কলকাতার বিতান অধিকারী। এবার সেই নিহত পর্যটকের স্ত্রী সোহিনী অধিকারীর হাতে তুলে দেওয়া হলো ভারতের নাগরিকত্বের শংসাপত্র। নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (CAA)-এর আওতায় কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করেছে।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগামের ভয়াবহ ঘটনার দিন সোহিনী অধিকারী নিজের চোখের সামনে স্বামীকে জঙ্গিদের গুলিতে ঝাঁঝরা হতে দেখেছেন। পরিবারের সঙ্গে আনন্দের ছুটি কাটাতে গিয়ে তাঁকে ফিরতে হয়েছে স্বামীর কফিনবন্দি নিথর দেহ নিয়ে। কলকাতার বাসিন্দা বিতান অধিকারী ফ্লোরিডায় একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। গত ৮ মার্চ তিনি দেশে ফিরে সপরিবারে কাশ্মীর ঘুরতে যান। সেখানেই অপ্রত্যাশিতভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। বিতানের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী সোহিনী অধিকারীর নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিতানের দাদা বিভু অধিকারী। এমনকি সংবাদমাধ্যমে তিনি সোহিনীকে বাংলাদেশের নাগরিক বলেও দাবি করেছিলেন। এই আবহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার গতকাল নিশ্চিত করেন যে, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানায় নিহত বিতান অধিকারীর স্ত্রী সোহিনী রায়কে কেন্দ্রীয় সরকার ভারতের নাগরিকত্ব দিয়েছে।
শনিবার সুকান্ত মজুমদার জানান, “বিয়ের পর সোহিনী রায় ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে নতুন জীবন দেওয়ার চেষ্টা করেছে।” তিনি এই উদ্যোগের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জানা গেছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্বের শংসাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সোহিনী রায় ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৭ সালে তিনি ভারতে আসেন।
পহেলগাঁওয়ের এই হামলার পর দেশজুড়ে কঠোর প্রত্যাঘাতের দাবি উঠেছিল। পাকিস্তানের আকাশে তখন আশঙ্কার কালো মেঘ জমেছিল। শেষ পর্যন্ত, পহেলগাঁওয়ের এই ঘটনার বদলা নিতে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী পরিচালনা করে ‘অপারেশন সিঁদুর’। ২৬টি তরতাজা প্রাণের বিনিময়ে চালানো হয় মাত্র ২৫ মিনিটের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযান। মনে করা হয়, হিন্দু নারীর সৌভাগ্য ও সম্মানের প্রতীক সিঁদুরকে সম্মান জানাতেই এই অভিযানের এমন নামকরণ করা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করে সোহিনী অধিকারী নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “ভগবান যেন আমার স্বামীকে শান্তিতে রাখেন… এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো স্ত্রীর কপালের সিঁদুর না মুছে যায়। সরকারের কাছে আমার শুধু এই অনুরোধ, আর কিছু নয়।”
সোহিনী অধিকারীর দ্রুত ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ সিএএ আইনের মানবিক দিকটি তুলে ধরেছে এবং সন্ত্রাসবাদের শিকার এক পরিবারকে কিছুটা হলেও সুরক্ষা ও মর্যাদা প্রদান করেছে।