ভারত-পাক সংঘাত, উৎকণ্ঠায় ফিরছেন বাংলাদেশি পড়ুয়া

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তৈরি হওয়া সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে এক মাস আগেই পাহাড়ের স্কুলগুলিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১ জুন থেকে ফের ক্লাস শুরু হবে। তবে, পরিস্থিতি বুঝে স্কুলের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে ছাত্রছাত্রীদের তা জানিয়ে দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের তরফে চলতি মাসের ৮ তারিখে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্কুলগুলিকে ছুটি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর কারণ হিসেবে বর্তমান পরিস্থিতি এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটিকে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘোষণার পর থেকেই কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরে এক ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দলে দলে বাংলাদেশি পড়ুয়ারা নিজ দেশে ফিরতে শুরু করেছে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
বাংলাদেশ থেকে আসা এক অভিভাবক জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের ছুটি ঘোষণার কথা জানিয়ে সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেছে। সাধারণত পাহাড়ের স্কুলগুলোতে জুন মাসে গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকে, কিন্তু এবার এক মাস আগেই কেন ছুটি দেওয়া হলো, তা জানতে চাইলে স্কুল থেকে বর্তমান পরিস্থিতি এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটি – এই দুটি কারণের কথা বলা হয়েছে। এই আকস্মিক পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশি অভিভাবকরা দ্রুত সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
কার্শিয়াং জেলার বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে প্রচুর বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। বর্তমানে এই ছাত্রছাত্রীরা দল বেঁধে বাংলাদেশে ফিরছে। তাদের অনেক অভিভাবক শনিবার বা তার আগেই ভারতে এসেছিলেন সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার জন্য। চট্টগ্রামের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী পুষ্পিতা সাহা জানিয়েছে, তাদের স্কুলে জুন মাসে গ্রীষ্মের ছুটি হয়, কিন্তু এবার এক মাস আগেই ছুটি দেওয়া হয়েছে এবং এর কারণ হিসেবে স্কুলের পক্ষ থেকে বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। ঢাকার আরেক ছাত্রীও জানিয়েছে যে তাদের স্কুলেও একই কারণ দেখানো হয়েছে এবং স্কুলের গাড়িতেই তাকে এদিন চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভীত কণ্ঠে সেই ছাত্রী জানিয়েছে, কখন কী হবে বোঝা যাচ্ছে না, তাই স্কুল ছুটি দেওয়ার পরপরই তারা বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।
এদিন চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরে শুধু ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদেরই বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ব্যস্ততা চোখে পড়েছে। অন্যান্য দিনের মতো চিকিৎসা বা ব্যবসার কাজে আসা মানুষের ভিড় এদিন তেমন লক্ষ্য করা যায়নি, যা বর্তমান পরিস্থিতির গভীরতাকেই স্পষ্ট করছে।
এই উপস্থাপনায় মূল তথ্যের কোনো পরিবর্তন না করে বাক্য এবং শব্দচয়নে কিছুটা ভিন্নতা আনা হয়েছে যাতে লেখাটি নতুন আঙ্গিকে পরিবেশিত হয়। আশা করি এটি আপনার পছন্দ হবে।