Gold: ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে সোনার দামে কতটা প্রভাব, জানুন ১০ গ্রাম সোনার দাম কত?

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া সীমান্ত উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের সোনার বাজারে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দামে বড়সড় লাফ দেখা গেছে, যা প্রায় ৪০০০ টাকার কাছাকাছি। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গিহানার পর ভারতীয় বাহিনীর ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু হওয়া এবং নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ক্রমবর্ধমান গোলাগুলির ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে বিনিয়োগ তুলে নিয়ে সোনাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে সোনার দামে।
এমসিএক্স এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে দামের চিত্র:
মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX)-এ সোনার ভবিষ্যৎ মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫ জুন মেয়াদোত্তীর্ণ ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধ সোনার ভবিষ্যৎ মূল্য ২ মে ছিল প্রতি ১০ গ্রামে ₹৯২,৬৩৭ টাকা। মাত্র সাত দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৯ মে সেই দাম প্রায় ৪% বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছেছে ₹৯৬,৫৩৫ টাকায়। এর ফলে এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে ₹৩,৮৯৮ টাকা।
অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান বুলিয়ান জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (IBJA) অনুযায়ী দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও সোনার দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ২ মে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ছিল প্রতি ১০ গ্রামে ₹৯৩,৯৫৪ টাকা, যা ৯ মে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ₹৯৬,৪২০ টাকায়। IBJA-এর হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে দাম বেড়েছে ₹২,৪৬৬ টাকা।
৯ মে অনুযায়ী, IBJA-র দেওয়া বিভিন্ন মানের সোনার দাম (প্রতি ১০ গ্রাম):
২৪ ক্যারেট (৯৯৯ হলমার্ক): ₹৯৬,৪২০
২২ ক্যারেট (৯১৬ হলমার্ক): ₹৯৪,১০০
২০ ক্যারেট: ₹৮৫,৮১০
১৮ ক্যারেট (৭৫০ হলমার্ক): ₹৭৮,১০০
১৪ ক্যারেট: ₹৬২,১৯০
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ: কেন বাড়ছে সোনার দাম?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে নতুন করে তৈরি হওয়া অস্থিরতা এবং সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিই সোনার দাম বাড়ার প্রধান কারণ। যখন কোনো অঞ্চলে রাজনৈতিক বা সামরিক অস্থিরতা বাড়ে, তখন বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে বিনিয়োগ তুলে নিয়ে সোনা বা রুপোর মতো নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন। এই ‘সেফ হ্যাভেন ডিমান্ড’ সোনার চাহিদা বাড়িয়ে তোলে, যা বিশ্বব্যাপী দাম বৃদ্ধিতে ইন্ধন জোগায়। আন্তর্জাতিক বাজারেও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা সোনার চাহিদা বাড়াতে অনুঘটকের কাজ করছে।
আসল সোনা চিনবেন কীভাবে?
সোনার গহনা কেনার সময় তার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হলমার্ক চিহ্ন এই বিশুদ্ধতা নির্দেশ করে। ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS) দ্বারা নির্ধারিত হলমার্ক অনুযায়ী:
২৪ ক্যারেট সোনা হল ৯৯.৯% বিশুদ্ধ (হলমার্ক ৯৯৯)।
২২ ক্যারেট সোনা হল ৯১.৬% বিশুদ্ধ (হলমার্ক ৯১৬)।
১৮ ক্যারেট সোনা হল ৭৫% বিশুদ্ধ (হলমার্ক ৭৫০)। গহনা কেনার সময় সোনার মূল দামের সঙ্গে গহনা তৈরির মেকিং চার্জ এবং সরকার নির্ধারিত GST যুক্ত হয়। হলমার্ক দেখে এবং রশিদ নিয়েই সোনা কেনা উচিত।
সীমান্ত পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সোনার বাজারে এই অস্থিরতা এবং ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। বিনিয়োগকারীদের এবং সাধারণ ক্রেতাদের এই সময়ে বাজার পর্যবেক্ষণ করে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।