জাভির নজরে আইএসএল, স্প্যানিশ কোচদের ‘পরীক্ষাগার’

আপনার দেওয়া লেখাটি তথ্যবহুল এবং সুগঠিত। এটিকে “নতুনভাবে” লেখার বিভিন্ন উপায় থাকতে পারে, যেমন এটিকে সংক্ষিপ্ত করা, নির্দিষ্ট অংশের উপর বেশি জোর দেওয়া, অথবা বাক্য গঠন কিছুটা পরিবর্তন করা। যেহেতু আপনি ঠিক কিভাবে নতুনভাবে লিখতে চান তা নির্দিষ্ট করেননি, আমি আপনার মূল লেখার ভাব ও তথ্য অক্ষুণ্ণ রেখে এটিকে কিছুটা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি, যেখানে বাক্য গঠন এবং শব্দচয়নের কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে:
ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল): স্প্যানিশ ফুটবল সংযোগ এবং জাভি হার্নান্দেজের প্রশংসা
গত এক দশকে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) বিশ্ব ফুটবল মানচিত্রে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছে। ইউরোপের শক্তিশালী ক্লাবগুলির বিখ্যাত আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের আগমন ও প্রস্থান এই লিগকে সমৃদ্ধ করেছে। তবে, ভারতের এই শীর্ষ ফুটবল লিগে স্পেন থেকে আসা প্রতিভা ও কোচের সংখ্যা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। স্প্যানিশ ফুটবলার ও প্রশিক্ষকরা ভারতীয় ফুটবলে অসাধারণ সাফল্য লাভ করেছেন, এবং সম্প্রতি বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি জাভি হার্নান্দেজের মন্তব্য এই ধারাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে।
‘দ্য অ্যাথলেটিক’-কে দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন বার্সেলোনা অধিনায়ক ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী জাভি হার্নান্দেজ আইএসএল সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্টতই বলেছেন, “আমি ইন্ডিয়ান লিগ অনুসরণ করি কারণ সেখানে অনেক স্প্যানিশ কোচ কাজ করছেন।” জাভির এই মন্তব্য ভারতীয় ফুটবল প্রেমীদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান এবং আইএসএলের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আইএসএল: স্প্যানিশ কৌশল ও দর্শনের কেন্দ্র
২০১৪ সালে আইএসএল প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই স্প্যানিশ কোচদের প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। আন্তোনিও লোপেজ হাবাস, সার্জিও লোবেরা এবং মানোলো মার্কেজের মতো কোচরা আইএসএলের ইতিহাসে নিজেদের নাম খোদাই করেছেন। তাঁরা কেবল একাধিক শিরোপাই জেতেননি, বরং লিগে দীর্ঘ সময় ধরে কোচিং করিয়েছেন।
মূলত স্পেনের বাস্ক অঞ্চল থেকে আসা এই কোচরা ভারতীয় ফুটবলে এক নতুন কৌশলগত মাত্রা যোগ করেছেন। তাঁদের উচ্চ পজেশন-ভিত্তিক ও ধৈর্যশীল খেলার শৈলী আইএসএলের অনেক দলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। এই কৌশলগুলি ভারতীয় কোচদেরও প্রভাবিত করেছে, যা দেশের ফুটবলের সামগ্রিক বোঝাপড়া বাড়াতে সাহায্য করেছে। জোসে মোলিনা, যিনি ২০২৪-২৫ মৌসুমে মোহন বাগানের সাথে আইএসএল শিরোপা জিতেছেন, এবং মানোলো মার্কেজের মতো কোচ প্রমাণ করেছেন যে অভিজ্ঞ স্প্যানিশ প্রশিক্ষকরা ভারতীয় ফুটবলে কতটা সফল হতে পারেন।
আইএসএলের বিকাশ এবং স্প্যানিশ সংযোগ
২০১৪ সাল থেকে আইএসএলের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল লিগগুলির মধ্যে তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও, আইএসএল দ্রুত বিশ্ব ফুটবলে একটি স্থান করে নিয়েছে। স্প্যানিশ কোচদের উপস্থিতি এই বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের উচ্চমানের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং কৌশলগত জ্ঞান ভারতীয় ফুটবলের মান উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, আন্তোনিও লোপেজ হাবাস এটিকে মোহন বাগানকে (বর্তমানে মোহন বাগান সুপার জায়ান্ট) ২০১৪-১৫ এবং ২০১৯-২০ মৌসুমে লিগ শিরোপা জিতিয়েছেন। সার্জিও লোবেরা এফসি গোয়ার আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শনের জন্য পরিচিত ছিলেন, এবং মানোলো মার্কেজ হায়দরাবাদ এফসি ও এফসি গোয়ার হয়ে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছেন। এই কোচরা কেবল ট্রফিই জেতেননি, বরং ভারতীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে পেশাদারিত্ব ও কৌশলগত শৃঙ্খলাবোধ জাগিয়ে তুলেছেন।
স্প্যানিশ কোচদের প্রভাব শুধুমাত্র কৌশলগত দিকেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁরা ভারতীয় ফুটবলের সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন। উচ্চ পজেশন-ভিত্তিক খেলা, যা স্পেনের ‘টিকি-টাকা’ স্টাইলের সাথে তুলনীয়, এখন অনেক আইএসএল দলের খেলার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই শৈলী ভারতীয় খেলোয়াড়দের কারিগরি দক্ষতা এবং খেলার বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করেছে।
জাভির আইএসএলে আগমনের সম্ভাবনা কি?
জাভি তাঁর সাক্ষাৎকারে আইএসএলে কোচিং করার সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। তবে তাঁর মন্তব্য লিগের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে এর প্রতি আগ্রহের প্রতিফলন। বার্সেলোনা ও কাতারের আল সাদে সফল কোচিং করা জাভির মতো একজন কিংবদন্তির আইএসএল নিয়ে খোঁজখবর রাখা ভারতীয় ফুটবলের জন্য সত্যিই সম্মানের।
জাভির কোচিং রেকর্ড অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি আল সাদের হয়ে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৯৭টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করে সাতটি শিরোপা জিতেছেন। এরপর বার্সেলোনায় ফিরে ২০২২-২৩ মৌসুমে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতিয়ে ক্লাবকে পুনরুজ্জীবিত করেন, যদিও ২০২৪ সালে তিনি বার্সেলোনা ছাড়েন।
বর্তমানে জাভির কাতার জাতীয় দলের কোচ হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, যা তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে অনেক ভারতীয় ফুটবল অনুরাগী স্বপ্ন দেখেন যে একদিন জাভির মতো একজন কোচ আইএসএলে এসে ভারতীয় ফুটবলের মানকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।
আইএসএলের ভবিষ্যৎ ও স্প্যানিশ উত্তরাধিকার
জেরার্ড জারাগোজা এবং অস্কার ব্রুজনের মতো নতুন প্রজন্মের স্প্যানিশ কোচদের আগমনে আইএসএলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। এই কোচরা তাঁদের নিজস্ব কৌশলগত দর্শন নিয়ে আসছেন, যা ভারতীয় ফুটবলের প্রযুক্তিগত বিবর্তনকে আরও গতি দেবে।
জাভির মতো ফুটবল আইকনের আইএসএল নিয়ে আগ্রহ ভারতীয় ফুটবলের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি ইঙ্গিত। এটি লিগের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং কৌশলগত পরিপক্কতার প্রমাণ। ভারতীয় ফুটবল ভক্তরা এখন আশা করছেন যে আইএসএল কেবল স্প্যানিশ কোচদের নয়, বিশ্বের সেরা ফুটবল প্রতিভাদেরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।
সংক্ষেপে, জাভি হার্নান্দেজের আইএসএল সংক্রান্ত মন্তব্য ভারতীয় ফুটবলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। স্প্যানিশ কোচদের অবদান লিগের কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত উন্নতিতে অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছে। আন্তোনিও লোপেজ হাবাস, মানোলো মার্কেজ এবং জোসে মোলিনার মতো প্রশিক্ষকরা ভারতীয় ফুটবলের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছেন, এবং নতুন প্রজন্ম সেই ধারা অব্যাহত রেখেছে। জাভির মতো কিংবদন্তির আগ্রহ আইএসএলের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকেই প্রমাণ করে। ভবিষ্যতে জাভি নিজে আইএসএলে কোচিং করাবেন কিনা, তা সময়ই বলবে, তবে তাঁর মন্তব্য ইতিমধ্যেই ভারতীয় ফুটবল অনুরাগীদের মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।