‘সংঘর্ষ বিরতির পক্ষে’, প্রতিশ্রুতি দিয়েই ফের হামলা পাকিস্তানের, সীমান্তে ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি

সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা লঙ্ঘন করে শনিবার রাতে জম্মু ও কাশ্মীর, রাজস্থান এবং পঞ্জাবের একাধিক সীমান্ত এলাকায় ফের হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি বিনা প্ররোচনায় গুলি ও গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার।

উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে শনিবার বিকেল ৫টা থেকে সংঘর্ষ বিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এই আলোচনার প্রস্তাব পাকিস্তান নিজেই দিয়েছিল। ভারত ও পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO) স্তরে আলোচনার মাধ্যমে ভূমি, আকাশ ও সমুদ্রপথে সমস্ত ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে দুই দেশ সম্মত হয়। শান্তি ফেরানোর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন।

কিন্তু শান্তির সেই প্রচেষ্টা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেস্তে যায়। শনিবার রাতেই পাকিস্তান লাইন অফ কন্ট্রোল (LoC) এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত (IB) বরাবর আচমকা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। এর ফলে সীমান্ত পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জম্মু ও কাশ্মীর, পঞ্জাব এবং রাজস্থানের বিভিন্ন অংশে হামলার খবর আসে।

রাজস্থানের সীমান্তবর্তী জয়সলমের জেলায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিনা প্ররোচনায় গুলি ও গোলাবর্ষণ করে পাকিস্তান সেনা। সূত্র অনুযায়ী, জয়সলমেরে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ৬টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। হামলার আশঙ্কায় জয়সলমেরে সাইরেনও বাজতে শুরু করে এবং সতর্কতা জারি করা হয়।

পঞ্জাবের অমৃতসরেও হামলার আশঙ্কায় যুদ্ধবিরতির পরেও ব্ল্যাকআউট জারি করা হয়। ভোরবেলায় অমৃতসরের ডিসি নির্দেশিকা জারি করে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সাবধানে থাকতে, আলো বন্ধ রাখতে এবং জানালা থেকে দূরে বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দেন। রাস্তা বা বারান্দায় বের হতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়।

জম্মু ও কাশ্মীরের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে জানান, শ্রীনগরে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ভারতীয় এয়ার ডিফেন্স ইউনিট সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তিনি এই হামলাকে ‘চুক্তির নগ্ন লঙ্ঘন’ এবং ‘একতরফা বিশ্বাসভঙ্গ’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, এটি কোনো সংঘর্ষ বিরতি ছিল না, ছিল চুক্তির সরাসরি খেলাপ।

পাকিস্তান কর্তৃক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের এই ঘটনাকে ভারত সরকার ‘এক মারাত্মক বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি পাকিস্তানের কাছে কড়া বার্তা পাঠান। তিনি বলেন, সীমান্তে পাকিস্তান সেনার আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিনি জানান, ভারত এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং পাকিস্তানকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। বিদেশ সচিব আরও জানান, ভারতীয় সেনাকে ইতিমধ্যেই কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সীমান্তে পুনরায় কোনো হামলা হলে তার পাল্টা উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দিতে হবে।

যদিও এই ঘটনার পর পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক একটি বিবৃতি দিয়ে জানায় যে, তারা সংঘর্ষ বিরতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং চুক্তির সঠিক বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তারা পাল্টা অভিযোগ করে যে কিছু এলাকায় ভারতই নাকি সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করেছে।

মার্কিন হস্তক্ষেপের পরও ব্যর্থ শান্তি প্রচেষ্টা:
এই সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতার দাবি করেছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের এই আকস্মিক ও ন্যাক্কারজনক হামলার ফলে সেই শান্তি প্রচেষ্টা শুরুতেই ব্যর্থ হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। চুক্তি মেনে চলার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।