“আমাদের শর্তেই হবে সংঘর্ষ বিরতি”-দোভালের কাছে দরবার পাকিস্তানের, PM মোদী দেন স্পষ্ট বার্তা

ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির মুখে শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে ইসলামাবাদ। ভারতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) এবং আইএসআই প্রধান আসিম মালিক। বিশেষ করে গত ৩ দিনের লাগাতার ভারতীয় আক্রমণের পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা একেবারে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলা হয়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভারত নিজেদের শর্তেই যুদ্ধবিরতি পালন করবে।
এর আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, দুই দেশই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে জানান, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।” ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও নিশ্চিত করেছে যে, ১০ মে শনিবার বিকেল ৫টা থেকে এই সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২ মে, যখন ভারতীয় সেনাবাহিনী “অপারেশন সিঁদুর” নামে এক অভিযানে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিকে ধ্বংস করে দেয়। এই হামলায় লস্কর-ই-তইবা ও জইশ-ই-মোহাম্মদের আস্তানাই মূল লক্ষ্য ছিল। এর জবাবে পাকিস্তান “অপারেশন বুনিয়ান উল মারসুস” নামে পাল্টা অভিযান শুরু করে, যেখানে তারা ২৫টি ভারতীয় সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই সংঘর্ষে দুই পক্ষেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানা গেছে।
এই অত্যন্ত উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভারতের এনএসএ অজিত ডোভাল এবং পাকিস্তানের এনএসএ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মালিকের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের গোপন আলোচনা শুরু হয়। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসাক দার পরবর্তীকালে নিশ্চিত করেন যে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকেই শান্তিপূর্ণ আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
এই নাজুক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ সৃষ্টি হয় এবং একাধিক দেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সক্রিয় ভূমিকা নেয়। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব এবং তুরস্ক এই আলোচনা সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অবশেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর জানিয়েছেন যে, উভয় দেশ স্থল, আকাশ এবং জলপথে সমস্ত সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, “সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ভারতের অবস্থান কঠোর এবং দৃঢ় থাকবে। এই যুদ্ধবিরতি ১০ মে, ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে।” যদিও শান্তি কার্যকর হলেও ভারতীয় সেনাবাহিনী সমস্ত রকম পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি জানান।