লাল কেল্লা, কুতুব মিনারে বাড়ানো হলো নিরাপত্তা, বিমানযাত্রীদের জন্য জারি বিশেষ নির্দেশিকা

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতের উপর একের পর এক হামলা চালানোর চেষ্টা বারবার বিফল হচ্ছে। ভারতীয় সেনার দুর্ভেদ্য এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পাকিস্তানি মিসাইল এবং ড্রোনগুলিকে কার্যকরভাবে রুখে দিয়েছে। এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, বিশেষ করে ঐতিহাসিক সৌধ, জনবহুল এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্রগুলিতে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের দিক থেকে লাগাতার উস্কানি এবং হামলা চালানোর প্রচেষ্টা নজরে আসছে। ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানোর চেষ্টা হলেও ভারতীয় বায়ুসেনা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা ইউনিটের তৎপরতায় তা সফল হতে পারছে না। ভারতের অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম আকাশ থেকেই শত্রুপক্ষের যেকোনো উড়ন্ত বস্তুকে চিহ্নিত করে ধ্বংস করে দিচ্ছে, যা পাকিস্তানের হামলা প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তাজমহল, লাল কেল্লা, কুতুব মিনারের মতো ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্ববিখ্যাত ঐতিহাসিক সৌধগুলির নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। আগ্রায় তাজমহলকে ঘিরে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগ্রা পুলিশের তাজ সিকিউরিটি ইউনিটকে বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা নজরদারি এবং পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দ্রুত সাড়াদানকারী দল (Quick Response Team) এবং স্থানীয় গোয়েন্দা ইউনিটকেও সক্রিয় রাখা হয়েছে।
দেশের রাজধানী দিল্লিতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে পুলিশ মাইকিং করে এলাকা খালি করে দিয়েছে এবং সেনা এলাকাটিকে ঘিরে রেখেছে। বিভিন্ন মল, বাজার, হোটেল এবং অন্যান্য জনবহুল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মেট্রো স্টেশন এবং বিমানবন্দরগুলিতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বোম ডিসপোজাল স্কোয়াড বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও আধা সেনা মোতায়েন করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে। দিল্লির প্রবেশ পথগুলিতে বাইরে থেকে আসা সমস্ত গাড়িতে কঠোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনাররা ১৫টি জেলার ডেপুটি কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দিল্লি সরকারের পরিষেবা দফতর একটি জরুরি নোটিস জারি করে সরকারি কর্মীদের সমস্ত ছুটি বাতিল করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনও সরকারি কর্মী ছুটি নিতে পারবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পশ্চিম ভারতের একাধিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রীদের জন্যও বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো বিমানবন্দরে নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। ইন্ডিগো, স্পাইসজেট, আকাসা এয়ার, এয়ার ইন্ডিয়ার মতো প্রধান বিমান সংস্থাগুলি তাদের যাত্রীদের জন্য বিশেষ বার্তা দিয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া এক্স (আগের টুইটার)-এ পোস্ট করে জানিয়েছে যে ব্যুরো অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (BCAS)-এর নির্দেশ অনুযায়ী বিমানবন্দরগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তাই যাত্রীদের অনুরোধ করা হচ্ছে, ফ্লাইটের নির্ধারিত সময়ের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছতে, যাতে চেক-ইন এবং বোর্ডিং প্রক্রিয়া মসৃণ হয়। ফ্লাইট ছাড়ার ৭৫ মিনিট আগে চেক-ইন কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও একটি অ্যাডভাইসরি জারি করে যাত্রীদের লাগেজ এবং চেক-ইন সংক্রান্ত নিয়মাবলী মেনে চলার অনুরোধ করেছে। বিমান সংস্থা এবং নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। রিয়েল টাইম ফ্লাইটের আপডেট পেতে নিয়মিত বিমান সংস্থার ওয়েবসাইট চেক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যাত্রীদের শুধুমাত্র অফিশিয়াল সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর নির্ভর করতে এবং যাচাই না করা বা ভুয়ো তথ্য শেয়ার না করতে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। মুম্বই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও যাত্রীদের কাছে বিলম্বের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পৌঁছানোর অনুরোধ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই পর্যটকদের মধ্যেও কিছুটা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পাকিস্তানের যেকোনো নাশকতা প্রচেষ্টাকে রুখে দিতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। এই কড়াকড়ির কারণে সাধারণ মানুষের কিছুটা অসুবিধা হলেও, তা দেশের সুরক্ষার স্বার্থে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।