ভারত-পাক উত্তেজনার আবহে ছুটি বাতিল করল নবান্ন, সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা

ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৎপর হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজ্য সরকারের অধীন সমস্ত দফতরের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতা ছাড়া অন্য কোনও কারণে ছুটি গ্রহণ করা যাবে না।

শুধু ছুটি বাতিলই নয়, প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনও সরকারি কর্মী তাঁর কর্মস্থল অর্থাৎ যেখানে তাঁর পোস্টিং রয়েছে, সেই স্থান ত্যাগ করতে পারবেন না। এর অর্থ হলো, কর্মস্থল থেকে অন্য কোথাও যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের তাঁদের পোস্টিং-এর স্থানেই উপস্থিত থাকতে হবে।

এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার নবান্নে একটি সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “প্যানিক করবেন না। রাজ্য সরকার সতর্ক রয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য স্তরে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং উত্তরবঙ্গের জন্য একটি পৃথক কন্ট্রোল রুমও চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “মানুষ যাতে আতঙ্কিত না হন, সে বিষয়ে আমরা নজর রাখছি। পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজরদারি চলছে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তর প্রস্তুত।” এছাড়াও, রাজ্যের তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষকেও এই সময়ে ছুটি ঘোষণা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে “বাচ্চাদের এখন ঘরেই থাকা ভাল।”

নবান্নের এই সিদ্ধান্তের পর রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যুদ্ধের মতো একটি সম্ভাব্য আবহে রাজ্যবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিষেবাগুলি স্বাভাবিক রাখার জন্যই রাজ্য সরকার এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে অধিকাংশ কর্মীর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের কর্তব্য পালন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে রাজ্য প্রশাসন আগামী দিনে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে।