পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা! ভূস্বর্গে ভ্রমণ কি এখন নিরাপদ? 5 দেশে ভ্রমণে বিরত থাকার পরামর্শ

সম্প্রতি কাশ্মীরের পহেলগাঁও এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলা এবং তার প্রত্যাঘাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর চালানো ‘অপারেশন সিদূর’ – এই দুইয়ের জেরে বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভূস্বর্গে ভ্রমণ কি এখন নিরাপদ? এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে অনেকের মনে। বিশেষ করে, এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের শক্তিধর পাঁচটি দেশ তাদের নাগরিকদের জম্মু ও কাশ্মীর ভ্রমণের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার পরামর্শ জারি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুর – এই দেশগুলি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তাদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২২ এপ্রিল, যখন পহেলগাঁও এক নৃশংস জঙ্গি হামলার শিকার হয়। এই হামলার পর থেকেই ভারতের পক্ষ থেকে এর যোগ্য জবাব দেওয়ার বিষয়ে প্রত্যাঘাতের আবহ তৈরি হয়। একই সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিনা প্ররোচনায় বারবার সীমান্ত পেরিয়ে গুলি চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে চলেছে। এই ধরনের উস্কানি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। পহেলগাঁও হামলার প্রায় ১৫ দিন পর, মঙ্গলবার গভীর রাতে ভারত এর কড়া জবাব দেয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে লুকিয়ে থাকা অন্তত ৯টি জঙ্গি গোষ্ঠীর ঘাঁটি এবং প্রশিক্ষণ শিবির লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালায়। এই সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিদূর’। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল সীমান্ত সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘরগুলিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া।

‘অপারেশন সিদূর’ সম্পন্ন হওয়ার পরও ভারত-পাক নিয়ন্ত্রণ রেখায় উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। বরং, আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা ১৫ দিন ধরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গুলি চালিয়ে যাচ্ছে বলে ভারতীয় পক্ষ জানিয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস একটি বিশেষ বিবৃতি জারি করেছে। এই বিবৃতিতে স্পষ্টত উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কারণে ভারতজুড়েই অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে। তাই এই মুহূর্তে জম্মু ও কাশ্মীর ভ্রমণ করা থেকে মার্কিন নাগরিকদের বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই নয়, ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরও তাদের নাগরিকদের একই রকম সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাকিস্তান এবং ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে যারা ভ্রমণ করছেন বা করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা উচিত। মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং একান্ত প্রয়োজন না থাকলে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলে ভ্রমণ করলে নিরাপত্তার ঝুঁকি বা ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা সতর্ক করে দিয়েছে।

পাশাপাশি, উপরোক্ত পাঁচটি দেশের বিদেশ মন্ত্রক থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। যে সমস্ত মার্কিন, ব্রিটিশ, কানাডিয়ান, অস্ট্রেলিয়ান এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিক বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, তাঁদেরও চরম সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। তাঁদের স্থানীয় খবরের উপর মনোযোগ রাখতে, স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা নির্দেশিকাগুলি কঠোরভাবে মেনে চলতে এবং যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে অবিলম্বে তাদের নিজ নিজ দেশের বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, পহেলগাঁওয়ের ঘটনা এবং পরবর্তী সামরিক কার্যকলাপ জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও এর প্রভাব পড়েছে, যা বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ সতর্কতায় প্রতিফলিত হচ্ছে।