‘দেশ সবার আগে’ বিয়ে থামিয়ে নিরাপত্তা মহড়ায় যোগ যুবকের! বরযাত্রীরা অপেক্ষায়

বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় এক অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এবং প্রশংসনীয় ঘটনা ঘটেছে। নিজের বিয়ের আসরে যোগ দিতে বরযাত্রীর দল নিয়ে রওনা হওয়ার মুখেই এক যুবক তাঁদের ঘণ্টা দুয়েক অপেক্ষা করিয়ে যোগ দিলেন দেশজুড়ে চলা এক গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা মহড়ায়। তাঁর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণে বিয়ের অনুষ্ঠানও বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখতে হয়। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দেশের অভ্যন্তরে নতুন ও জটিল হুমকি ও ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে এই নিরাপত্তা মহড়া আয়োজিত হয়েছিল।
এই যুবকের নাম সুশান্ত কুশওয়াহা। বুধবার বিকেল ৬টার সময় কনের বাড়ির উদ্দেশে বরযাত্রীদের নিয়ে তাঁর পূর্ণিয়া থেকে রওনা হওয়ার কথা ছিল। কনের বাড়ি ছিল আড়ারিয়া জেলার থেকেও আরও প্রায় ৪০ কিমি দূরে। কিন্তু দেশের কর্তব্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে কোনও সঙ্কোচ না করেই সুশান্ত তাঁর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু এবং অপেক্ষারত কনেকেও ২ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করিয়ে এই জরুরি মহড়ায় অংশ নেন।
পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় সুশান্ত তাঁর এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমার বিয়ে ছিল, এটা অবশ্যই আমার আনন্দের কারণ। কিন্তু এটাই আমার আনন্দের একমাত্র কারণ ছিল না। আজ ভারতীয় সশস্ত্র সেনা পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এটা অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত যে আমি এই মহড়ার অংশ হতে পেরেছিলাম।’ সুশান্ত সংবাদমাধ্যমকে জানান যে তিনি মঙ্গলবারই তাঁর পরিবার ও কনের পরিবারকে জানিয়ে রেখেছিলেন যে পূর্ণিয়ায় নিরাপত্তা মহড়া আয়োজিত হলে তিনি তাতে অংশ নেবেন।
‘অপারেশন সিঁদুর’ পরবর্তী যুদ্ধমহড়া
২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে ভারত পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের কিছু অংশে সামরিক হামলা চালিয়ে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে, এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’। এই হামলা শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরেই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে নতুন ও জটিল হুমকি ও ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ড্রিল বা যুদ্ধমহড়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। এটি দেশের ২৪৪টি জেলায় একযোগে আয়োজিত হয়েছিল। সমগ্র দেশজুড়ে এই নাগরিক প্রতিরক্ষা উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন অভ্যাস’। এই যুদ্ধ মহড়া বেশ কিছু রাজ্যে এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আয়োজিত হয়েছিল। বিমান হামলা, বৃহৎ মাপের অগ্নিকাণ্ড, উদ্ধার অভিযানের মতো বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির অনুকরণ করে এই নিরাপত্তা মহড়া পরিচালনা করা হয়েছিল।
‘সেনারা পারলে আমিও পারব’
সুশান্তের বার্তা ছিল স্পষ্ট: ‘দেশ সবার প্রথমে’। মহড়া শেষ করে তিনি রাত ৮টার সময় বরযাত্রীদের নিয়ে কনের বাড়ির উদ্দেশে বেরিয়ে যান। সংবাদমাধ্যমে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান যে সেনাদের প্রায়ই তাদের বিয়ের মণ্ডপ ছেড়ে উঠে যেতে হয় সীমান্তে যুদ্ধক্ষেত্রে দেশের আহ্বানে। পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে তিনিও ঠিক এমনই করতে রাজি আছেন, নিজের বিয়ে বা ব্যক্তিগত জীবনের থেকেও দেশের প্রয়োজনকেই তিনি সবার আগে রাখবেন।
সুশান্ত কুশওয়াহার এই পদক্ষেপ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং দেশের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসার পরিচয় দিয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকেও সরিয়ে রেখে দেশের সুরক্ষার প্রস্তুতিতে অংশ নেওয়ার এই ঘটনা প্রমাণ করে, জাতীয় কর্তব্য পালনের জন্য অনেক সাধারণ মানুষও সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা রাখে।