স্বস্তির খবর: সময়ের আগেই ভারতের দিকে এগিয়ে আসছে বর্ষা, আপডেট আবহাওয়া দফতরের !

খাতায় কলমে গ্রীষ্ম এখন মধ্যগগনে। ক্যালেন্ডার বলছে বৈশাখ মাস এখনও শেষ হয়নি, জৈষ্ঠ্য মাসের শুরু হতে এখনও কিছুদিন বাকি। সাধারণত জুন মাসের শুরুতে কেরালা দিয়ে ভারতে বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটে। কিন্তু এবার স্বস্তির খবর শুনিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। মনে করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই এবার ভারতের দিকে এগিয়ে আসছে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বা বর্ষা।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আগামী ১৩ মে-র আশপাশেই বর্ষা প্রথম ভারতের ভূখণ্ড স্পর্শ করতে চলেছে দক্ষিণ আন্দামান সাগর, দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরের বেশ কিছুটা অংশ এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে। অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় মৌসুমী বায়ুর অগ্রসরের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত অনুকূল বলে মনে করা হচ্ছে। এই অঞ্চলেই বর্ষার প্রথম আগমনকে ভারতে বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ হিসেবে গণ্য করা হয়।
তবে ভারতের মূল স্থলভাগে বর্ষা প্রবেশ করে সাধারণত কেরালা রাজ্যের মধ্যে দিয়ে। কেরালায় বর্ষা প্রবেশের নির্দিষ্ট তারিখ কবে হবে, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিস্তারিত পূর্বাভাস দিয়ে জানিয়ে দেবে আবহাওয়া দফতর। সাধারণত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে বা তার কাছাকাছি সময়ে কেরালায় বর্ষা আসে।
এদিকে যেহেতু দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু আন্দামান সাগর বা নিকোবরে ঢুকে পড়তে চলেছে, তাই তার হাত ধরে তামিলনাড়ু প্রবল গরমে পোড়ার হাত থেকে কিছুটা রেহাই পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তামিলনাড়ুতে ইতিমধ্যেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। ১৩ মে-র আশপাশে বর্ষা প্রবেশের পর সেই বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ বছর সারা দেশেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দফতর, যা দেশের কৃষির জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। সাধারণভাবে জুনের শুরুতে কেরালা দিয়ে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারতে প্রবেশ করে। তারপর তা ক্রমে দেশের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ অংশ জুড়ে বর্ষা প্রবেশের লিখিত সময় ৮ জুন। তবে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হোক বা অন্য কোনো কারণে, এই লিখিত সময়ের অনেক পরে ঢুকছে বর্ষা। এবার আন্দামান ও নিকোবরে সময়ের আগে প্রবেশ ঘটলে, তার প্রভাবে কেরালায়ও যদি নির্ধারিত সময়ের আগে বর্ষা এসে পড়ে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গেও আগেভাগে ঢুকে পড়তে পারে বর্ষা বলে অনেকে মনে করছেন।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে একটি ঘূর্ণাবর্ত দক্ষিণ পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থান করছে, যা মৌসুমী বায়ুকে এগিয়ে আসতে সাহায্য করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, তীব্র গরমের দাবদাহের মধ্যে বর্ষা নিয়ে এই প্রাথমিক পূর্বাভাস কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে। সময়ের আগে বর্ষার আগমন গরম থেকে যেমন রেহাই দেবে, তেমনই দেশের কৃষির জন্যও তা অত্যন্ত শুভ সংকেত। কেরালায় বর্ষা প্রবেশের তারিখের দিকেই এখন সকলের নজর থাকবে।