‘অপারেশন সিঁদুর’-এর নেপথ্যে কে?-কাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?

মঙ্গলবার গভীর রাতে পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তানের মাটিতে থাকা ৯টি শক্তিশালী জঙ্গি ঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এই মিসাইল হামলায় অন্তত ৮০ জন জঙ্গি নিহত এবং প্রায় ৭০ জন সন্ত্রাসবাদী আহত হয়েছে বলে জানা যায়। দেশের প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই বিশাল সাফল্যের পর এখন দেশজুড়ে যে প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো, এত বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিযানের মূল দায়িত্ব কার হাতে ছিল? কীভাবে এবং কে এই অপারেশন পরিচালনা করেছেন? আর কীভাবেই বা এটি এত সফল হলো?
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি উচ্চপদস্থ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, পহেলগাম জঙ্গি হামলার ভয়াবহতার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই পাকিস্তানের পাল্টা জবাব দেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেশের সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেন। এই বিষয়ে তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, প্রতিরক্ষা সচিব, বিদেশ মন্ত্রক, সেনাবাহিনীর তিন প্রধান (স্থল, নৌ ও বায়ুসেনা) এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। এই বৈঠকগুলিতেই পাকিস্তানকে একটি উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ ‘ফ্রি হ্যান্ড’ বা স্বাধীনতা দেওয়া হয়, যাতে তারা নিজেদের মতো করে অভিযানের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন করতে পারে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জটিল অপারেশন কার্যকর করার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকে। তিনি তার বিশেষ টিমকে নিয়ে এই অভিযানের নীল নকশা তৈরি করেন। কবে, কখন, কীভাবে এই হামলা চালানো হবে তার বিস্তারিত এবং চূড়ান্ত ছক প্রধানমন্ত্রীকে আগেই জানানো হয়েছিল এবং তাঁর অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযানের ‘খেলা শুরুর বাঁশি’ অর্থাৎ চূড়ান্ত নির্দেশ এবং বাস্তবায়নের সময় ও সিদ্ধান্ত এসেছিল জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের কাছ থেকেই।
সূত্রের আরও দাবি, মঙ্গলবার রাত ১২টা ৩৭ মিনিটে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু হয়। অজিত দোভাল তার নিজস্ব কন্ট্রোল রুমে বসে অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং চূড়ান্ত পেশাদার একটি বিশেষ টিম নিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো অপারেশনটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং পরিচালনা করেছেন।
এই অপারেশনের প্রস্তুতির প্রথম ধাপ ছিল পহেলগাম হামলার পরপরই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মাধ্যমে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ এবং জঙ্গি সংগঠনগুলোর গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা। পরের ধাপে ছিল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য কোন কোন জঙ্গি ঘাঁটিতে প্রথম পর্যায়ে হামলা চালানো হবে, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বেছে নেওয়া। কেন ওই নির্দিষ্ট ঘাঁটিগুলি প্রথম পর্যায়ে বেছে নেওয়া হচ্ছে, তার পেছনে প্রমাণ সহ নির্ভরযোগ্য যুক্তি তৈরি করার কাজটিও অজিত দোভালের তত্ত্বাবধানেই সম্পন্ন হয়।
এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেন। এই বৈঠকে প্রধান আলোচনা হয় কিভাবে জঙ্গিদের মূল পরিকাঠামো ধ্বংস করে তাদের আঘাত হানা যায়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর অজিত দোভাল তার কোর টিমের সাথে চূড়ান্ত বৈঠকে বসেন এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সামগ্রিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের কৌশল চূড়ান্ত করেন।
সব মিলিয়ে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ কেবল একটি সামরিক অভিযান ছিল না, এটি ছিল সুচিন্তিত পরিকল্পনা এবং নিখুঁত বাস্তবায়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এই পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এবং তার নেতৃত্বেই ভারতীয় সেনা পাকিস্তানের বুকে সফলভাবে প্রত্যাঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এই অভিযান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।