“২৬-এর বদলা ৯০!”-পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গি নিধন ভারতের, নেওয়া হলো পেহেলগাম হামলার বদলা

পহেলগাঁওয়ে নৃশংস হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছিল পাক মদতপুষ্ট লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিরা। সেই বর্বরতার যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার মধ্যরাতে অতর্কিতে পাকিস্তানের মাটিতে বিমান হামলা চালিয়ে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন জঙ্গিকে খতম করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। পাকিস্তানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে ভারত তার যোগ্য প্রত্যাঘাত নিশ্চিত করেছে।
এই ক্রস-বর্ডার অ্যাকশনে ভারত সুনির্দিষ্টভাবে জইশ-ই-মুহাম্মদ, লস্কর-ই-তৈবা এবং হিজবুল মুজাহিদিনের আস্তানাগুলোকে ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে।
উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকদের সূত্রে খবর, জইশের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বাহাওয়ালপুর এবং লস্করের কেন্দ্র মুরিদকে, এই দুটি স্থানে বড় আকারের বিমান হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিটি ঘাঁটিতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মুরিদকেতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য ছিল মসজিদ ওয়া মারকাজ তৈবা, যা লস্করের মূল কেন্দ্র এবং তাদের সদর দফতর হিসেবে পরিচিত। এটিকে ‘পাকিস্তানের টেরর নার্সারি’ বলা হতো। এছাড়াও, এই হামলায় জঙ্গিদের লঞ্চ প্যাড, প্রশিক্ষণ শিবির এবং র্যাডিকালাইজেশন সেন্টারগুলি সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই হামলা মূলত রাষ্ট্রসঙ্ঘ কর্তৃক চিহ্নিত লস্কর এবং জইশ জঙ্গি সংগঠনগুলির ঘাঁটি লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে। অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করার পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক্স (আগের টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় – ‘জাস্টিস ইস সার্ভড’, অর্থাৎ ন্যায়বিচার সম্পন্ন হয়েছে।
নিহত জঙ্গিদের মোট সংখ্যা এখনও ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি খতিয়ে দেখছে।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ভারতীয় বিমান বাহিনী অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং সতর্কতার সাথে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সন্ত্রাসী আস্তানাগুলিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অত্যন্ত কৌশলগতভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যাতে সন্ত্রাসীদের কার্যকলাপের উপযুক্ত জবাব দেওয়া যায় এবং একই সাথে প্রতিবেশী দেশের সাথে সংঘাত বৃদ্ধি না পায়। এই অভিযানের সময় পাকিস্তানের কোনো সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি, যা ভারতের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দেয় যে এটি কেবল সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য পরিচালিত হয়েছে।
এদিকে, ভারতের এই বিমান হামলার পর পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন শুরু করেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে পাকিস্তান পুঞ্চ-রাজৌরি এলাকার ভিম্বর গলিতে মর্টার ও কামান নিক্ষেপ করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, যার যোগ্য জবাব ভারতীয় সেনাবাহিনী দিচ্ছে।