বিশেষ: যে ব্রিজ দেখে কেঁপে ওঠে সবার বুক, একবার দেখলেই চমকের যান সকলে!

আধুনিক অ্যামিউজমেন্ট পার্কে যে রোলার কোস্টার দেখতে পাওয়া যায়, তাতে চেপে বসলেই ভয়ে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে অনেকের। আজ কোনো রোলার কোস্টারের কথা নয়, তবে ঠিক তেমনই দেখতে একটি সেতু নিয়ে আলোচনা করব, যা দেখলে আপনারও একই অনুভূতি হতে পারে। জাপানের এশিমা ওহাসি সেতু— যাকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ানক সেতু হিসেবে গণ্য করা হয়। এর আকৃতি দেখলে মনে হবে যেন একটি চলন্ত রোলার কোস্টার আচমকা থেমে আছে মাঝপথে, আর এটি বিশ্বের সবচেয়ে খাড়া বা তীক্ষ্ণ ঢালের সেতুগুলোর মধ্যেও অন্যতম।

জাপানের লেক নাকাওমি-র উপর নির্মিত এই অদ্ভুত সেতুটি সাকাইমিনাতো এবং মাৎসু শহরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। দূর থেকে দেখলে এর সুউচ্চ খাড়াই রীতিমতো ভীতিকর মনে হলেও, কাছে থেকে দেখলে আতঙ্ক কিছুটা কমে আসে। তবে টেলিফোটো লেন্স ব্যবহার করে ছবি তুললে বা দেখলে এটিকে আরও ভয়ঙ্কর মনে হতে পারে। এর আকৃতির কারণে এটিকে স্থানীয়ভাবে ‘পর্বতাকৃতি সেতু’ও বলা হয়। এটি প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্যই তৈরি করা হয়েছে।

৪৪ মিটার উচ্চতার এই সেতুটি তার কাঠামোগত বিশেষত্বের জন্য পরিচিত। এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ‘রিজিড ফ্রেম’ সেতু। দৈর্ঘ্যের হিসেবে সেতুটি ১.৪৪ কিলোমিটার এবং প্রস্থে এটি ১১.৩ মিটার। এই সেতুটির খাড়াই এতটাই বেশি যে, যানবাহন চালকরা এটি পার হওয়ার সময় রীতিমতো আতঙ্কে থাকেন। একপাশে সেতুটির ঢাল ৫.১ শতাংশ এবং অন্যপাশে ঢাল ৬.১ শতাংশ। আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হলেও, আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক আশ্চর্য এবং নির্ভুল কেরামতিতেই এমন খাড়া সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে, যা আধুনিক স্থাপত্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সুউচ্চ এই সেতুটিতে যানবাহন অত্যন্ত ধীর গতিতে আরোহণ করে, কিন্তু নামার সময় ঢালের কারণে গতি দ্রুত হয়। চালকদের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা। এই খাড়াই এবং ভিন্নধর্মী সেতুটি স্বাভাবিকভাবেই রোমাঞ্চপ্রিয়দের মধ্যে দারুণ উৎসাহ তৈরি করেছে, ঠিক যেমন একটি রোলার কোস্টার তৈরি করে। যারা স্থাপত্য ও প্রকৌশলের আশ্চর্য দেখতে ভালোবাসেন, তাদের কাছেও এটি একটি বিশেষ আকর্ষণ।