বাস চালাতে ক্ষতি বিপুল অর্থ, কোচবিহারে আপাতত বন্ধ হচ্ছে লেডিজ় স্পেশাল

পর্যাপ্ত যাত্রী না-থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত লেডিজ স্পেশাল বাস পরিষেবা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হলো উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (NBSTC)। গত বছর নভেম্বরে ঘটা করে কোচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ার রুটে এই বিশেষ পরিষেবা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ছ’মাসের মাথায় যাত্রী সংকটে পড়ে নিগম কর্তৃপক্ষ বাস চলাচল বন্ধ করে দিল।

মে মাসের গোড়া থেকেই কোচবিহার-আলিপুরদুয়ার রুটে লেডিজ স্পেশাল বাসটির চাকা থমকে গেছে। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, যাত্রী না-থাকায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। জানা গেছে, মহিলা যাত্রীর অভাবে বাস চালিয়ে প্রতিদিন নিগমকে হাজার হাজার টাকা লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে ছ’মাসের মধ্যেই রুটটি থেকে বাস পরিষেবা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, পরিষেবা শুরুর আগে কি আদৌ কোনো প্রাথমিক সমীক্ষা করা হয়েছিল?

যদিও নিগমের চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায় এই প্রসঙ্গে বলেন, “গরমের ছুটি চলছে তাই আপাতত বাসটি বন্ধ রাখা হয়েছে। স্কুল খুললে যাত্রীদের সুবিধার্থে সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করে ফের পরিষেবা চালু করা হবে।”

তবে নিগমের চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সঙ্গে মাঠের বাস্তব পরিস্থিতির বিশেষ মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সূত্র মারফত জানা গেছে, কোচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ার পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে ২৬ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল। বাসটিতে আসন সংখ্যা ছিল ৩৭টি, অথচ প্রতি ট্রিপে যাত্রী সংখ্যা ৮ থেকে ১০ জনের বেশি হচ্ছিল না।

নিগমের নিজস্ব হিসেব বলছে, একটি বাস চালাতে প্রতি কিলোমিটারে কেবল জ্বালানি বাবদ খরচ হয় প্রায় ২৪ টাকা। সেই হিসাবে প্রতিদিন ১০০ কিলোমিটার (আসা-যাওয়া) চালাতে জ্বালানি খরচই হতো প্রায় আড়াই হাজার টাকা। অন্যদিকে, বাসের টিকিট বিক্রি করে দৈনিক গড় আয় ছিল মাত্র প্রায় এক হাজার টাকা। অর্থাৎ, শুধুমাত্র জ্বালানি খরচের হিসাবেই প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকা লোকসান হচ্ছিল। এর সঙ্গে চালক, কন্ডাক্টর ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ যোগ করলে ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি দাঁড়ায়। সরকারি ভর্তুকিতে চলা একটি পরিবহণ সংস্থার পক্ষে এমন লোকসানে লেডিজ স্পেশাল চালানোর যৌক্তিকতা নিয়ে কর্মীদের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। শনি ও রবিবার বাদ দিয়ে সপ্তাহের পাঁচ দিন কোচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ারের মধ্যে দিনে দু’বার করে মোট চার ট্রিপ দিচ্ছিল এই লেডিজ স্পেশাল বাসটি।