পহেলগাম হামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য NIA-র হাতে: কাঠগড়ায় কুখ্যাত মুস্তাক জারগারের সংগঠন!

জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার তদন্তে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্যপ্রমাণ হাতে এসেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (NIA)। তাদের দৃঢ় সন্দেহ, এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে সক্রিয় ছিল জঙ্গি সংগঠন ‘এআই উমার মুজাহিদিন’, যার প্রধান কুখ্যাত মুস্তাক আহমেদ জারগার। এনআইএ মনে করছে, পহেলগামের হামলায় ‘এআই উমার মুজাহিদিন’-এর সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে এবং জারগারের নির্দেশেই জঙ্গিদের স্থানীয়ভাবে মদতদাতাদের সবরকম সাহায্য করেছে সংগঠনটি।

এনআইএ সূত্রে জানা গেছে, কুখ্যাত জঙ্গি মুস্তাক আহমেদ জারগার ‘এআই উমার মুজাহিদিন’-এর শীর্ষ নেতা। ১৯৯৯ সালে কান্দাহারে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান ছিনতাইয়ের পর যে তিন জঙ্গিকে যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত সরকার ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল, মুস্তাক আহমেদ জারগার তাদের মধ্যে অন্যতম। ওই তিন জঙ্গির মধ্যে বাকি দু’জন ছিল কুখ্যাত মাসুদ আজ়হার এবং আহমেদ ওমার সইদ শেখ।

৫২ বছর বয়সী মুস্তাকের মূল বাড়ি ছিল শ্রীনগরের নওহাট্টা এলাকার জামা মসজিদ লাগোয়া গনি মহল্লায়। সে ‘এআই উমার মুজাহিদিন’-এর চিফ কমান্ডার হিসেবে সক্রিয় ছিল। তার পূর্ব পরিচয় ছিল জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের (JKLF) একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে। পাকিস্তানের মাটিতে সে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। ২০১৯ সালে অনন্তনাগে সিআরপিএফ-এর উপর হামলা সহ একাধিক নাশকতার ঘটনায় তার নাম মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছিল।

উল্লেখ্য, ‘এআই উমার মুজাহিদিন’ সংগঠনটি ভারতে ২০২৩ সাল থেকে নিষিদ্ধ। বিমান ছিনতাইয়ের পর মুক্ত হয়ে মুস্তাক আহমেদ জারগার পাকিস্তানেই আশ্রয় নিয়েছে। এনআইএ তার শ্রীনগরের বাড়ি সহ ভারতে থাকা সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। ভৌগলিকভাবে শ্রীনগর থেকে বহু দূরে পাকিস্তানে অবস্থান করলেও উপত্যকায় তার ‘ওভারগ্রাউন্ড’ সদস্যদের মধ্যে মুস্তাকের প্রভাব এখনও অটুট। আর এই কারণেই সে এনআইএ-র নিবিড় পর্যবেক্ষণে (স্ক্যানারে) রয়েছে।

শুধু মুস্তাকের সংগঠনই নয়, জম্মু-কাশ্মীরের আরও একাধিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন এখন এনআইএ-র কড়া নজরদারিতে রয়েছে। গত কয়েকদিনে উপত্যকাজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০০ জন ‘ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ বা স্থানীয় সহযোগীর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে এবং ৯০টিরও বেশি নতুন মামলা রুজু করা হয়েছে। এনআইএ সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক ‘ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার’কে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। তাদের অনেকেই স্বীকার করেছে যে পহেলগাম হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে মুস্তাক জারগারের কাছে আগে থেকেই খবর ছিল এবং তার সংগঠন স্থানীয় যুবকদের, যারা জঙ্গিদের সাহায্য করেছে, সবরকম সহায়তা প্রদান করেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উপত্যকায় জঙ্গি কার্যকলাপ এবং তাদের স্থানীয় নেটওয়ার্কের উপর এনআইএ-র তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে।