মুর্শিদাবাদে রাষ্ট্রপতি শাসন? জেনেনিন কী চায় CPIM ও কংগ্রেস? স্পষ্ট বার্তা দিলো দুই দল

মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনার পর রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস সেখানকার পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে যান এবং পরবর্তীতে দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে একটি রিপোর্ট জমা দেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই রিপোর্টে রাজ্যে সংবিধানের ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করা হয়েছে। রাজ্যপালের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস। দুই বিরোধী দলই একযোগে রাজ্যপালের সুপারিশকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করছে।
যদিও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সুপারিশের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সিপিএম এবং কংগ্রেসের স্পষ্ট মত – রাজ্যে অশান্তির পরিস্থিতি থাকলেও রাষ্ট্রপতি শাসনে কোনো লাভ হবে না, বরং সমস্যা আরও জটিল হবে।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই প্রসঙ্গে বলেছেন, রাজ্যের বর্তমান অশান্ত পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনিক ব্যর্থতা দায়ী ঠিকই, কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসন তার সমাধান নয়। তাঁর কথায়, “রাজ্যের মানুষ অতীতেও রাষ্ট্রপতি শাসনের তিক্ত অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। আমরা দেখেছি কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে বা মণিপুরে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাস বা অশান্তি পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। তাই পশ্চিমবঙ্গের সমস্যার সমাধান রাজ্য সরকারকেই করতে হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্যপালের হাতে ক্ষমতা তুলে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বদলে আরও জটিল হবে, শান্তি ফিরবে না। অতীতে রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রয়োগ তারই প্রমাণ। বামফ্রন্ট রাজ্যপালের এই পদক্ষেপের মধ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছে।
অন্যদিকে, রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার রাজ্যপালের সুপারিশকে সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদের স্পষ্ট অপব্যবহার বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর কথায়, “এটি ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মূল ভিত্তির উপর আঘাত। রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার চেষ্টা।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, কংগ্রেস তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক পথেই লড়ছে। ব্যালটের মাধ্যমেই এই সরকারের ব্যর্থতার জবাব দেবে মানুষ, এর জন্য কোনো কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। শুভঙ্কর সরকারের মতে, সংবিধানের ৩৫৬ ধারা কেবল তখনই প্রয়োগ করা যেতে পারে যখন রাজ্যে সাংবিধানিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। রাজ্যপালের রিপোর্টে এমন কোনো প্রমাণ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “বরং রাজ্যপালের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদ্দেশ্য স্পষ্ট প্রতীয়মান।”
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও রাজ্যপালের এই সুপারিশের তীব্র সমালোচনা করেছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে এটিকে রাজ্যপালের একটি ‘রাজনৈতিক অ্যাসাইনমেন্ট’ হিসেবে কটাক্ষ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। আপাতত বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস – দুই প্রধান বিরোধী দলই রাজ্যপালের রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে।