মুর্শিদাবাদ সফরে মমতা! ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার বার্তা

সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের কিছু এলাকায় ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে সোমবার দুপুরে জেলার উদ্দেশে রওনা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডুমুরজোলা থেকে হেলিকপ্টারে চেপে তিনি যান মুর্শিদাবাদে। কপ্টারে ওঠার আগে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি ধুলিয়ান ও সুতিতে গিয়ে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম সহায়তা প্রদান করবেন।
প্রসঙ্গগত, গত মাসে সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জ, ধুলিয়ান ও সুতিতে ব্যাপক গোলযোগ দেখা দেয়। এই ঘটনায় হরগোবিন্দ দাস, তাঁর পুত্র চন্দন দাস সহ মোট তিনজনের মৃত্যু হয়। রাজ্য সরকার নিহতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করলেও, হরগোবিন্দ ও চন্দনের পরিবার সেই অর্থ গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। তারা বর্তমানে কলকাতার বিধাননগরে অবস্থান করছেন এবং হাইকোর্টে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্য সরকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং আমরা তা দিতে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু কেউ যদি সেই টাকা গ্রহণ করতে না চায়, সেক্ষেত্রে আমাদের পক্ষে কিছু করার থাকে না।”
বিরোধীদের অভিযোগ, নিহত পরিবারগুলির এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। অন্যদিকে, শাসকদলের একাংশের ধারণা, পুরো বিষয়টিতে বিজেপির প্ররোচনা থাকতে পারে। উল্লেখ্য, ঘটনার কিছুদিন পরই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ধুলিয়ানে গিয়ে নিহত পরিবারগুলিকে ব্যক্তিগতভাবে ২০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দিয়েছিলেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও।
তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই অশান্তি চলাকালীন মুর্শিদাবাদে যাননি। তাঁর যুক্তি, “যতক্ষণ না পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে, ততক্ষণ সেখানে যাওয়া সঠিক মনে করিনি। এখন পরিস্থিতি শান্ত, তাই আমি যাচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে আমার পূর্বনির্ধারিত কিছু সরকারি কর্মসূচি ছিল, সেগুলি সম্পন্ন করেই আজ রওনা দিয়েছি।”
মুখ্যমন্ত্রী সোমবার বহরমপুরে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেবেন। মঙ্গলবার তিনি ধুলিয়ান ও সুতি এলাকা পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে তিনি হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনবেন। এছাড়া, প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের ঘর তৈরি করে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের আর্থিক সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে যারা ওখানে রয়েছেন, আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব। রাজ্য সরকার তাদের পাশে আছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মুর্শিদাবাদ সফর ঘিরে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তাঁর আগামী বুধবার কলকাতায় ফেরার কথা।