রায়গঞ্জকে ভালোবেসে থাকাই কাল! মাত্র আধঘণ্টার ঝড়বৃষ্টিতে তছনছ পরিযায়ী পাখিদের ঘর, আহত বহু

একদিকে মানুষ যখন হাঁসফাঁস করা গরম থেকে ক্ষণিকের স্বস্তি খুঁজছিল, ঠিক তখনই মাত্র আধঘণ্টার এক আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় তছনছ করে দিল রায়গঞ্জের এক পরিচিত ছবিকে, আর সেই সাথে কেড়ে নিল বহু পক্ষীশাবকের প্রাণ। রবিবারের বিকেলের এই ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে শহরের বিভিন্ন পাড়ায় ভালোবাসা বা পরিবেশগত কারণে বাসা বেঁধে থেকে যাওয়া পরিযায়ী পাখিদের ঘর ভেঙে গেছে এবং অন্তত ১০০টি পক্ষীশাবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বহু জীবিত অসুস্থ ছানারা আশ্রয়ের খোঁজে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে।
রায়গঞ্জ কুলিক পক্ষীনিবাস দেশ-বিদেশের পশুপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে এক প্রধান আকর্ষণ। সাধারণত জুন-জুলাই মাসে সুদূর সাইবেরিয়া সহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পরিযায়ী পাখিদের দল এখানে এসে ভিড় জমায়, প্রজনন ঘটায় এবং ফেব্রুয়ারির শেষে আবার নিজ নিজ দেশে ফিরে যায়। কিন্তু এদের মধ্যে কিছু পাখি, বিশেষ করে লিটল এগ্রেট ও নাইট হেরন জাতীয় পাখিরা রায়গঞ্জের পরিবেশকে ভালোবেসে বা অন্য কোনো কারণে কুলিক সংলগ্ন তুলসিতলা, মিলনপাড়া, রবিন্দ্রপল্লী সহ শহরের বেশ কিছু পাড়াতেই বাসা বেঁধে স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে ওঠে। প্রাকৃতিক আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে এই ‘রায়গঞ্জের বাসিন্দা’ হয়ে ওঠা পাখিরা এখানকার পরিবেশে ফের প্রজনন ঘটায় এবং নতুন পক্ষীশাবকের জন্ম দেয়।
রবিবারের বিকেলের বিধ্বংসী ঝড় আঘাত হানে এই পাখি ও তাদের নতুন করে জন্ম দেওয়া শাবকদের উপর। ঝড়ের দাপটে অনেক পাখির মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ভেঙে যাওয়ায় অসংখ্য পক্ষীশাবক গাছ থেকে নীচে মাটিতে পড়ে যায়। এদের মধ্যে দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রায় ১০০টির মৃত্যু ঘটেছে এবং যারা বেঁচে আছে, সেই অসুস্থ ও আহত ছানারা অসহায় অবস্থায় এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশুপ্রেমীরা। পিপলস ফর অ্যানিম্যালস-এর সম্পাদক গৌতম তান্তিয়া জানান, “এই পরিযায়ী পাখিরা এখানে থেকে গিয়ে প্রজনন ঘটিয়েছে, এটা এক বিশেষ বিষয়। রবিবারের ঝড়ে বহু পাখির মৃত্যু ও আহত হয়েছে।” তিনি বন দফতরের কাছে দ্রুত আর্জি জানিয়েছেন, আহত পাখি ও শাবকদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক এবং ভবিষ্যতে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে এদের বাঁচাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক। এই ঘটনা রায়গঞ্জের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের এক করুণ চিত্র তুলে ধরেছে।