মালিকের গোপনাঙ্গ খুবলে খেল ‘পোষ্য কুকুর’! রাতভর রক্তক্ষরণ, মর্মান্তিক মৃত্যু যুবকের

একপাশে নিথর দেহ, চারপাশে রক্তের ছড়াছড়ি। আর পাশেই নিশ্চিন্তে বসে ছিল সেই চারপেয়ে! বিশ্বাস করা কঠিন, কিন্তু নির্মম এটাই সত্যি। পোষা কুকুরের নৃশংস আক্রমণে নিজের ঘরেই মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদের মধুরানগরে, যা রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। মৃত ব্যক্তির গোপনাঙ্গে পোষ্যটির কামড়ের ভয়াবহ আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

জানা যাচ্ছে, মৃত ব্যক্তির নাম পবন কুমার (৩৮)। অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলার বাসিন্দা হলেও তিনি কাজের সূত্রে হায়দরাবাদে থাকতেন এবং একটি বেসরকারি সংস্থায় ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি পি. সন্দীপ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

পুলিশকে দেওয়া বয়ানে সন্দীপ জানিয়েছেন, রবিবার, ৪ মে রাতে পবন তাঁর পোষা কুকুরটিকে নিয়ে নিজের ঘরেই ঘুমাচ্ছিলেন। পবন শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন এবং দিন কয়েক আগেই হাসপাতাল থেকে ফিরেছিলেন। তাই তাঁকে একা তাঁর ঘরে ঘুমাতে দিয়ে সন্দীপ নিজে বসার ঘরে শুয়েছিলেন।

সোমবার সকালে অনেক ডাকাডাকি ও ফোন করা সত্ত্বেও পবন দরজা খুলছিলেন না বা ফোন ধরছিলেন না। কোনো সাড়া না পেয়ে চিন্তিত সন্দীপ খবর দেন স্থানীয় পুলিশে। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভাঙতেই ভেতরে যে দৃশ্য দেখা যায়, তা ছিল ভয়াবহ। রক্তে মাখামাখি অবস্থায় পবন মেঝেতে পড়েছিলেন। তাঁর গোপনাঙ্গের কাছে পোষ্য কুকুরের কামড়ের অত্যন্ত গুরুতর ক্ষত ছিল এবং মনে হচ্ছিল মাংস খুবলে নেওয়া হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল।

দ্রুত পবনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে চিকিৎসকেরা জানান। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

ঠিক কী কারণে পোষ্য কুকুরটি এমন হিংস্র হয়ে উঠলো এবং মালিকের উপর এমন ভয়াবহ আক্রমণ চালালো, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই অস্বাভাবিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য পুলিশ ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রিয় পোষা প্রাণীর হাতে এমন মর্মান্তিক পরিণতি যেন কল্পনারও অতীত, যা হতবাক করে দিয়েছে আত্মীয় পরিজন ও প্রতিবেশীদের। পোষা প্রাণীর এমন ভয়াবহ রূপে বদলে যাওয়ার ঘটনা গোটা ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।