দোকানদার জিনিস ফেরত না নেওয়ায়, ব্লেড দিয়ে গুরুতর হামলা ১৫ বছরের কিশোরী

উত্তরপ্রদেশের হাপুর জেলায় দোকানে জিনিস ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিবাদ চরম আকার ধারণ করল। এক তরুণী ব্লেড নিয়ে হামলা চালালেন এক দোকানদারের ওপর। পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়, যার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৫ বছর। তিনি নিয়মিত হাপুরের ওই দোকানটিতে যেতেন বলে জানা গেছে। দোকানদারের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিন তিনি কিছু না কিছু কিনতেন এবং পরবর্তীতে তা ফেরত দিতে চাইতেন। জিনিস ফেরত নিতে রাজি না হলে চাপও সৃষ্টি করতেন। ঘটনার দিন দোকানদার স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি এবার আর জিনিস ফেরত নেবেন না। আর এতেই শুরু হয় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়।
আরও পড়ুন:
ভারত পাকিস্তানকে আক্রমণ করলে বাংলাদেশের উচিত উত্তরপূর্ব দখল করা, উসকানি ঢাকার পদস্থ কর্তার
দু-তিন দিনের মধ্যে ভারত আক্রমণ করতে পারে, গোয়েন্দা তথ্য তুলে ধরে আশঙ্কা পাক মন্ত্রীর
কিশোরী দোকানদারকে চাপ দিতে থাকেন এবং গালিগালাজ শুরু করেন। অভিযোগ উঠেছে যে তিনি ব্লেড দেখিয়ে হুমকিও দিয়েছিলেন। দোকানদারের ভাই দেব সাইনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দীর্ঘ তর্কাতর্কির পর তারা শেষ পর্যন্ত কিশোরীর জিনিস ফেরত নিয়ে টাকা ফিরিয়ে দিতে রাজি হন এবং তাকে দোকান থেকে চলে যেতে বলেন। কিন্তু টাকা হাতে নিয়েই মেয়েটি পেছন ফিরে দাঁড়ায় এবং হঠাৎ করে তার ভাইয়ের ওপর ব্লেড দিয়ে আক্রমণ করে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আক্রমণের মুহূর্তে এক মহিলাও দোকানদারের পাশে উপস্থিত ছিলেন। তিনি দ্রুত হস্তক্ষেপ করে কিশোরীকে ধরে ফেলেন এবং দোকানদারকে রক্ষা করেন। পরবর্তীতে ওই কিশোরীকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত কিশোরীর মানসিক কিছু সমস্যা রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের অধীনে জুভেনাইল কোর্টে পাঠানো হবে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক ভারসাম্যহীনতা বা সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পেলে এ ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যেতে পারে। পুলিশের তরফে মেয়েটির কাউন্সেলিং এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রশাসন সমস্ত দোকানদারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত বা অস্বাভাবিক আচরণের ক্ষেত্রে দ্রুত পুলিশে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছে।