পিরিয়ড চলাকালীন রান্না করায় তরুণীকে খুন শাশুড়ি-ননদের! দেহ সৎকার করতে বাধা পরিবারের, পলাতক অভিযুক্তরা

পিরিয়ড চলাকালীন রান্নাঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না করেছে কেন বৌমা – এটাই ছিল তার ‘অপরাধ’। আর এই ‘অপরাধে’র কারণেই তাঁদের ২৬ বছর বয়সি মেয়েকে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা নৃশংসভাবে খুন করেছে, এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে মৃত গায়ত্রী কোলির পরিবার। মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই মুহূর্তে মৃতার পরিবারের সাফ কথা, যতক্ষণ অভিযুক্ত শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে পুলিশে খুনের অভিযোগ দায়ের হচ্ছে এবং অভিযুক্তরা গ্রেফতার হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের মেয়ের দেহ সৎকার করবেন না।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সি গায়ত্রীকে গত বৃহস্পতিবার তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু মৃতার পরিবারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অত্যন্ত গুরুতর। তাঁদের দাবি, গায়ত্রীর মাসিক চলছিল। সেই অবস্থাতেই তিনি রান্নাঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না করছিলেন। এই বিষয়টি তাঁর শাশুড়ি এবং ননদের নজরে আসে এবং তারা তীব্র আপত্তি জানায়। এই নিয়ে বাড়িতে একটি ঝামেলার সূত্রপাত হয়। তখনই ঝগড়া চলাকালীন গায়ত্রীর শাশুড়ি ও ননদ মিলে তাঁকে মারতে শুরু করে।

গায়ত্রীর পরিবারের দাবি, মারধরের এক পর্যায়ে শাশুড়ি ও ননদ শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে গায়ত্রীকে খুন করেছে। এরপর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা প্রমাণ করার জন্য প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে একটি শাড়ি দিয়ে তাঁর দেহ গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দেয়।

গায়ত্রীর সাত বছরের একটি মেয়ে এবং পাঁচ বছরের একটি ছেলে আছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শিশু দুটি মাকে হারালো। তাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই গায়ত্রীর স্বামী-সহ তাঁর শাশুড়ি এবং ননদ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে সূত্রের খবর। জলগাঁও পুলিশ এই ঘটনায় একটি খুনের মামলা দায়ের করেছে এবং বিস্তারিত তদন্ত শুরু করছে বলে জানা গেছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, পলাতক অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

এই ঘটনা সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার এবং নির্মমতার দিকটি আবারও সামনে এনেছে। মাসিক চলাকালীন মহিলাদের অপবিত্র মনে করার মতো কুসংস্কার আজও সমাজে কতটা গভীরে শিকড় গেঁথে আছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। মহারাষ্ট্রের নবনির্মাণ সেনা দলের নেত্রী শালিনী ঠাকরে এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এই ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এই ধরনের কুসংস্কার এবং নিষ্ঠুর মানসিকতার জন্য দুটো ফুটফুটে সন্তান তাদের মাকে হারাল। এই ঘটনাই বলে দেয় আমরা সমাজে এখনও কতটা পিছিয়ে আছি। আরও অনেক বেশি করে সচেতনতা ছড়ানো যে কতটা প্রয়োজনীয়, তা বলাই বাহুল্য।’

কুসংস্কারের বলি হওয়া এই তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা দেশের আধুনিক সমাজের মুখে এক গাঢ় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আবারও তুলে ধরেছে।