“যুদ্ধ হোক বেকারত্বের অবসান ঘটাতে”-কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারকেই তীব্র আক্রমণ মীনাক্ষীর

জম্মু-কাশ্মীরে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলাকে কেন্দ্র করে যখন দেশের রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর চলছে, ঠিক তখনই পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জ থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারকেই তীব্র আক্রমণ শানালেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ডিওয়াইএফআই (DYFI)-এর রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। শনিবার ডিওয়াইএফআই-এর পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে তীব্র ‘যুদ্ধ’ ঘোষণার আহ্বান জানান।
রানিগঞ্জের রাজবাড়ি মোড় সংলগ্ন ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, “যুদ্ধ হোক বেকারত্বের অবসান ঘটাতে, যুদ্ধ হোক মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে, যুদ্ধ হোক ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে।” তিনি যুব সমাজ সহ সমস্ত স্তরের মানুষকে এই লড়াইয়ে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিজেপিকে নিশানা করে মীনাক্ষী বলেন, “কেন্দ্রের মোদী সরকার পশ্চিম বর্ধমান জেলায় বার্ন স্ট্যান্ডার্ড, হিন্দুস্তান কেবলস সহ একের পর এক কারখানা আর একের পর এক কোলিয়ারি বন্ধ করছে।” এর ফলে এলাকার বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, “মানুষের হাতে কাজ নেই।” এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে যুব সমাজকে সমস্ত স্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করতে হবে বলেও তিনি আহ্বান জানান।
রাজ্য সরকারের তৃণমূলকেও আক্রমণ করে মীনাক্ষী বিগত বাম সরকারের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টানেন। তিনি বলেন, “১৯৯৮ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাম সরকার ১ লক্ষ ৩৪ হাজার মানুষকে চাকরি দিয়েছিল। আর বর্তমান রাজ্য সরকার মাত্র ২৬ হাজার চাকরি দেওয়ার কথা বললেও, তা নিয়ে দুর্নীতির কারণে সেই চাকরি চলে যাচ্ছে মানুষের।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্য এবং কেন্দ্রের দুই শাসক দল তৃণমূল এবং বিজেপি দু’জনেরই একমাত্র অ্যাজেন্ডা হলো ধর্ম। তাদের অ্যাজেন্ডায় কর্মসংস্থানের কথা নেই, বেকারদের রোজগারের কথা বলা নেই। কারখানা-কোলিয়ারির বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধেও তারা নীরব বলে মীনাক্ষী অভিযোগ করেন।
মানুষের জন্য লড়াইয়ের পথ যে সহজ নয় এবং এর জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি অতীতের আত্মদানের প্রসঙ্গ টানেন। মীনাক্ষী বলেন, “এই রানিগঞ্জ শহরে বেশ কয়েক দশক আগে শ্রমিক স্বার্থে লড়াই করতে যাওয়ায় সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শ্রমিক নেতাকে ট্রাক চাপা দিয়ে মারা হয়েছিল। কয়েক বছর আগে আমাদের এক যুবনেতাকে গুলি করে মারা হয়।” তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “মনে রাখতে হবে, মানুষের জন্য লড়াই করতে গেলে কেস খেতে হবে, জেলে যেতে হবে। তবু আমরা লাল ঝাণ্ডা নিয়েই এগিয়ে চলেছি।”
১০০ দিনের কাজ ও বিজেপি নেতৃত্বকে বিঁধলেন মীনাক্ষী
তিনি বলেন, সংসদে যখন ৬১ জন বামপন্থী সাংসদ ছিলেন, তখন ১০০ দিনের কাজের আইন হয়েছিল। আজ সেটুকুও এই রাজ্যে মিলছে না, কারণ মোদী সরকার দেশ জুড়ে এর জন্য বরাদ্দ অর্থ অর্ধেক করে দিয়েছে। এই বিষয়ে বিজেপির স্থানীয় বা রাজ্য নেতৃত্ব – অগ্নিমিত্রা পল, সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারীরা নীরব বলেও মীনাক্ষী অভিযোগ করেন।
শনিবার ‘বিভাজন রুখে দাও, রুটি-রুজি বুঝে নাও’, এই দাবিকে সামনে রেখে ডিওয়াইএফআই-এর পশ্চিম বর্ধমান জেলার ২৪তম সম্মেলন শুরু হয়েছে। তারই প্রকাশ্য সমাবেশে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ এবং নিজেদের লড়াইয়ের সংকল্প ব্যক্ত করলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। এদিনের সমাবেশে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ছাড়াও সংগঠনের রাজ্য নেতা ধ্রুবজ্যোতি সাহা, ভিক্টর আচার্য ও বৃন্দাবন দাস বক্তব্য রাখেন।