ভারতের সঙ্গে মাত্র ৪ দিন তীব্র যুদ্ধ করতে পারবে পাকিস্তান, এরপরই দুর্বল হয়ে পড়বে তারা! প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সাম্প্রতিক ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ভারত সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই আবহে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে এবং যেকোনও মুহূর্তে সংঘাত শুরু হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ভারতের সম্ভাব্য আক্রমণের আশঙ্কায় পাকিস্তানও কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

তবে পাকিস্তানের এই হুমকির মধ্যেই তাদের সামরিক বাহিনীর চরম দুর্বলতার চিত্র সামনে এসেছে একটি রিপোর্টে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে পর্যাপ্ত গোলাবারুদই নেই, যা দিয়ে তারা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ করতে পারবে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ কামান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। এর জেরে তাদের অপারেশনাল প্রস্তুতিতে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ ৪ দিন বা ৯৬ ঘণ্টা একটানা তীব্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত গোলাবারুদ মজুত রেখেছে। এরপরই তাদের সামরিক শক্তি কার্যত দুর্বল হয়ে পড়বে। সাধারণত, পাকিস্তানকে লক্ষ্য করেই ভারতের সামরিক সরঞ্জাম, যুদ্ধবিমান ও অস্ত্রশস্ত্র নির্মাণ বা কেনা হয়ে থাকে এবং এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের হাতে পর্যাপ্ত গোলাবারুদের অভাব তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ভারতের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে পাক সামরিক বাহিনীর কাছে M109 হাউইটজারের জন্য পর্যাপ্ত ১৫৫ মিমি শেল বা BM-21 সিস্টেমের জন্য ১২২ মিমি রকেট নেই।

কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের ১৫৫ মিমি আর্টিলারি শেল ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছিল, যার ফলে তাদের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে। সূত্রগুলি জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী এই গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের অভাব নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত। গত ২ মে স্পেশাল কর্পস কমান্ডারদের সম্মেলনেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে সূত্র আরও দাবি করেছে যে, পাকিস্তান সম্ভাব্য ভারতীয় হামলার আশঙ্কায় সীমান্তের কাছে নতুন করে গোলাবারুদের ডিপো তৈরি করেছে, যদিও তাদের মজুত খুবই সীমিত। অতীতেও পাকিস্তানের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া সামরিক বাহিনীর এই চ্যালেঞ্জগুলি স্বীকার করে বলেছিলেন যে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য পাকিস্তানের গোলাবারুদ এবং অর্থনৈতিক শক্তির অভাব রয়েছে।

অর্থাৎ, এক হাতে ভারতকে কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেও, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্ভবত তেমন আশাব্যঞ্জক নয়। গোলাবারুদের এই তীব্র ঘাটতি তাদের যুদ্ধ করার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে সীমিত করেছে, যা বর্তমান উত্তেজনার আবহে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।