১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো ! নিহত সমীরের স্ত্রীর নিশানায় ‘LIC’, সরকারের কাছে সাহায্যের আর্তি

কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ লস্কর জঙ্গি হামলায় নিহত কলকাতার বাসিন্দা সমীর গুহর পরিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। নিহত সমীর গুহর স্ত্রী শবরী গুহ ও শ‍্যালক সুব্রত ঘোষ বেহালায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রচারিত হচ্ছে যে তাঁরা এলআইসি থেকে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাঁদের অভিযোগ, এই অপপ্রচারের কারণে তাঁদের পরিবার চরম মানসিক হেনস্থার শিকার হচ্ছে।

সুব্রত ঘোষ বলেন, “আমরা এলআইসির তরফে কেবলমাত্র ১০ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পেয়েছি। এখনও কিছু টাকা বাকি রয়েছে, তবে কোনোভাবেই আমরা ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা পাইনি। কিছু লোক এই মর্মান্তিক ঘটনার সুযোগ নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। এটা পুরোপুরি বেসলেস।” তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এই মিথ্যা প্রচার আমার ও আমার মেয়ের ভবিষ্যতের ক্ষতি করবে। এটা দ্রুত বন্ধ করা দরকার।”

তাঁদের আরও গুরুতর অভিযোগ, এলআইসির তরফে দেবাশিস বাগ নামে এক ব্যক্তি তাঁদের অনুমতি না নিয়েই তাঁদের বেহালার বাড়ির ছবি তুলে নিয়েছেন। সুব্রত বলেন, “এটা আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় আঘাত। যদি এলআইসি এই ছবিগুলি ব্যবহার করে কোনও বিজ্ঞাপন করতে চায়, তাহলে তো আগে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত ছিল এবং অনুমতি নেওয়া দরকার ছিল। আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। আমরা এই অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করব।”

নিহত সমীর গুহর স্ত্রী শবরী গুহ জানান, তাঁর স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁদের সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, যেন তাঁদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য বা তাঁর নিজস্ব কর্মসংস্থানের জন্য একটি ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

পহেলগাঁও-এ হামলার দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শবরী ও সুব্রত। তাঁদের কথায়, “আমরা সবে পহেলগাঁও পৌঁছেছি। জায়গাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়া সত্ত্বেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা চোখে পড়েনি। প্রায় ১৫ মিনিট পরেই আমরা গুলির শব্দ শুনতে পাই। স্থানীয় এক দোকানদার তখন বলেন হনুমানের উপদ্রব হতে পারে, তাই গুলি চলতে পারে। পরে বুঝতে পারি, এটা কোনও সাধারণ ঘটনা নয়, একটি বড় জঙ্গি হামলা।”

সুব্রত জানান, “গুলি শুরু হওয়ার পর আমরা তখনই মাটিতে শুয়ে পড়ি। তারপর আমার স্বামীর কাছেই এসে জঙ্গিরা গুলি চালানো হয়। হামলার খবর পাওয়ার পর সেনা এসে পৌঁছাতে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এমন একটা সংবেদনশীল জায়গায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকা খুবই দুঃখজনক এবং সরকারের উচিত এই বিষয়ে জবাব দেওয়া।”

এই পুরো ঘটনাকে ঘিরে নিহত সমীর গুহর পরিবার এখন সঠিক বিচার এবং প্রকৃত তথ্য সামনে আনার দাবি জানিয়েছে, পাশাপাশি মিথ্যা প্রচার বন্ধের আর্জি জানিয়েছে।