সাধারণ মানুষের বাড়ি ‘দখল’ করছে পাক অধিকৃতরা! মরিয়া হয়ে গেছে মুনিরের সেনা

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ভারত সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ এবং হুঁশিয়ারি দেওয়ায় ইসলামাবাদ কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছে। দিন যত যাচ্ছে, পাকিস্তানের উদ্বেগ ততই বাড়ছে এবং তারা একপ্রকার ‘যুদ্ধ মোডে’ চলে গেছে। ভারতের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় পাকিস্তান এখন নিজেদের প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি জোরদার করতে বাধ্য হচ্ছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) নতুন করে বাঙ্কার খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC)-র কাছাকাছি সাধারণ মানুষদের বাড়িঘর খালি করে সেগুলিকে সামরিক চৌকিতে পরিণত করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় তরুণ যুবকদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে যুদ্ধের সাইরেন বসানো হয়েছে।

ভারতের পদক্ষেপের পর থেকেই পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমাগত আকুতি জানাচ্ছে এবং নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সম্প্রতি তুর্কি রাষ্ট্রদূতের সাথে দেখা করে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার মতো ভিত্তিহীন অভিযোগও করেছেন। এরই মাঝে নিজেদের সামরিক শক্তি জাহির করতে শনিবার ৪৫০ কিলোমিটার পাল্লার ‘আবদালি’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালায় তারা। শুধু তাই নয়, সিন্ধু নদে ভারতের কোনো বাঁধ তৈরি হলে তা উড়িয়ে দেওয়ার মতো চরম হুঁশিয়ারি এবং বহু পাক নেতা সরাসরি পরমাণু হামলার হুমকি পর্যন্ত দিয়ে বসে আছেন।

এই সব ফাঁপা চ্যালেঞ্জ এবং হুমকির পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণরেখায় নিয়ম করে সংঘর্ষবিরি চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে। ভারতীয় সেনা জানিয়েছে, গত ৩ এবং ৪ মে’র মধ্যবর্তী রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারা, বারামুল্লা, পুঞ্চ, রাজৌরি, মেনধর, নৌশেরা, সুন্দরবনি এবং আখনুর সহ একাধিক এলাকার ভারতীয় পোস্ট লক্ষ্য করে ছোট অস্ত্র দিয়ে গুলি চালিয়েছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সৈন্যরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ভাবে সেই হামলার যোগ্য জবাব দিয়েছে।

তবে তাদের এই আগ্রাসী মনোভাব এবং প্রস্তুতির মাঝেও একটি রিপোর্টে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর চরম দুর্বলতার চিত্র সামনে এসেছে, যা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে বর্তমানে আর্টিলারি গোলাবারুদের গুরুতর ঘাটতি রয়েছে, যা তাদের অপারেশনাল প্রস্তুতিতে মারাত্মক সমস্যা তৈরি করেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে এই মুহূর্তে মাত্র ৯৬ ঘণ্টা (অর্থাৎ চার দিন) একটানা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত গোলাবারুদ মজুত রয়েছে। যেকোনো সেনাবাহিনীর প্রাণশক্তি যেখানে জওয়ান, অস্ত্র এবং সর্বোপরি পর্যাপ্ত গোলাবারদ, সেখানে পাক সেনার কাছে এই অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর চরম অভাব রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এই তথ্য পাকিস্তানের আগ্রাসী হুমকির বিপরীতে তাদের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।