বিলাসবহুল বাড়ি ছেড়ে গাড়িতেই জীবন কাটাচ্ছেন এই ব্যক্তি, নেটমাধ্যমে ভাইরাল হতেই সবাই অবাক, কত টাকা বাঁচিয়েছে জানেন?

নিজের প্রাসাদোপম বাড়ি থাকা সত্ত্বেও কিনা গাড়ির মধ্যেই জীবন কাটাচ্ছেন এক ব্যক্তি! চিনের এই অবাক করা খবর ছড়িয়ে পড়েছে নেটমাধ্যমে এবং রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। চিনের গুয়ানদং প্রদেশের বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী এক প্রোগ্রামার, জ্যাং ইয়ুনলাই, জানিয়েছেন যে তিনি বিগত ৪ বছর ধরে তাঁর নিজের বৈদ্যুতিক গাড়িতেই জীবন কাটাচ্ছেন।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, জ্যাং ইয়ুনলাই কাজের সূত্রে আজ থেকে ৬ বছর আগে চিনের উন্নত শহর শেনজেনে চলে যান। চিনের এই উন্নত শহরে যারা প্রোগ্রামার বা এই পেশায় আছেন, বেশিরভাগই একটি বড় বিলাসবহুল বাড়িতে থাকা শুরু করেন, কিন্তু জ্যাং ইয়ুনলাই বেছে নিয়েছেন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনধারা। তবে, সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আর্থিক সমস্যার কারণে এই পথ বেছে নেননি তিনি, শুধুমাত্র স্বাধীনতা এবং আরামের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্যাং।

জ্যাং জানিয়েছেন, আর্থিক কোনও বাধা বা দায়বদ্ধতা তাঁর নেই। শুধুমাত্র স্বাধীনতা এবং আরামের কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একটা পার্কে ক্যাম্পিং করার সময় থেকেই তাঁর মনে এই ধারণার জন্ম নেয় এবং তারপরেই তিনি নিজের বৈদ্যুতিন গাড়িটিকে একটি আস্ত চলন্ত ঘরে বদলে নেন। তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “একটি বৈদ্যুতিক গাড়িতে আপনি সহজেই এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবহার করতে পারেন এবং ভিতরে একটি ম্যাট্রেসও পেতে নিতে পারেন। আর তাই এখানে শোয়া ঘুমানো খুবই আরামদায়ক হয়।”

সারা সপ্তাহ জুড়ে একটি সুন্দর বাঁধা ছকে জীবন কাটান জ্যাং। অফিসের ক্যাফেটেরিয়ায় খাওয়া-দাওয়া করেন তিনি, জিমে গিয়ে স্নান সারেন, পাবলিক স্টেশনে গাড়ির চার্জ দেন, এবং রাতের বেলা একটা পার্কের কাছে গাড়ি পার্কিং করে রাখেন, আর সেখানেই সিট ফোল্ড ডাউন করে ম্যাট্রেস বিছিয়ে ঘুমিয়ে নেন তিনি। আর সপ্তাহান্তে যখন নিজের গ্রামে বা শহরে বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন, তখন তাঁর জামা-কাপড় কাচার কাজও সারা হয়ে যায়।

জ্যাং জানিয়েছেন যে এই গাড়িতে থাকার ফলে তাঁর দৈনিক খরচ অনেকটাই কমে এসেছে। দৈনিক প্রায় ১০০ ইউয়ানে অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ১২০০ টাকায় তাঁর খরচ চলে আসে। পার্কিংয়ের খরচ সামান্য এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের খরচও কম। বিগত তিন বছরে এই জীবনযাপনের কারণে তিনি প্রায় ১১.৬ লক্ষ টাকা খরচ বাঁচিয়েছেন।

কিন্তু আবারও তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে আর্থিক কোনও বাধা বা দায়বদ্ধতা বা চাপ তাঁর নেই। তাঁর কথায় তাঁকে যদি কেউ বিনা ভাড়াতেও কোনও ফ্ল্যাটে থাকতে বলে তিনি রাজি হবেন না কারণ সেই ফ্ল্যাটের গতে বাঁধা জায়গার থেকে পার্কে থাকা গাড়ির ভিতরে জীবন কাটানোতে অনেক বেশি স্বাধীনতা রয়েছে। লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন এবং প্রাসাদোপম বাড়ি থাকা সত্ত্বেও জ্যাং জানিয়েছেন যে আগামী দিনেও তিনি এই প্রচলিত জীবনযাপনে ফিরতে চান না। স্বাধীনতা এবং আরামকে প্রাধান্য দিয়ে এক অন্যরকম জীবন বেছে নেওয়া এই প্রোগ্রামারের কাহিনি সত্যিই অবাক করার মতো এবং নেটমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছে।